কুড়িগ্রামে দুধকুমারের বাঁধ ভেঙে ভাসল ২০ গ্রাম, পানিবন্দী হাজারো মানুষ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ১২:২৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় দুধকুমার নদের বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে হু হু করে পানি ঢুকছে। এতে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ আকস্মিকভাবে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নাগেশ্বরী উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকার বেড়িবাঁধে ধস দেখা দেয়। সংস্কারের অভাবে গত রবিবার বিকেলে বাঁধটির একটি বড় অংশ ভেঙে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর পর থেকেই তীব্র গতিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া, মালিয়ানি, সেনপাড়া, তেলিয়ানীপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা, ধনিটারী ও বড়মানী গ্রাম এবং নাগেশ্বরী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাঞ্জুয়ারভিটা ও ফকিরটারী এলাকায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৮৫ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে ৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং তিস্তা নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের শেষ সম্বল। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভূরূঙ্গামারী ও রৌমারী উপজেলায় প্রায় ২০৪ হেক্টর জমির রোপা আমনের বীজতলা, পাট এবং শাকসবজির খেত পুরোপুরি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করায় সংশ্লিষ্ট চারটি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভাঙন কবলিত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে পানির গতি রোধ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় শুকনো খাবার ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
১৩০ বার পড়া হয়েছে