দারিদ্র্যকে হার মানিয়ে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেল কুলির ছেলে আরাফাত
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১১:০৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চরম দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনকে জয় করে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে জয়পুরহাটের অদম্য মেধাবী আরাফাত ইসলাম। কুলি বাবার এই সন্তানের এমন অভাবনীয় সাফল্যে খুশির জোয়ার বইছে তার পরিবার ও স্থানীয় মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে। তবে অভাবের সংসারে জিপিএ-৫ পেলেও উচ্চশিক্ষা অর্জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন চরম শঙ্কায় রয়েছে এই মেধাবী তরুণ।
জয়পুরহাট সদর উপজেলার মাধাইনগর গ্রামের এক জরাজীর্ণ ঘরে বাস আরাফাতদের। বাবা আবু মুসা স্থানীয় বাজারে কুলি হিসেবে কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। আর মা আর্জিনা বেগম গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি ব্র্যাকের হয়ে গ্রামে গ্রামে স্বাস্থ্যতথ্য দেওয়ার কাজ করেন। দুজনের হাড়ভাঙা খাটুনি আর সামান্য আয়ে যেখানে দুবেলা নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানো ছিল প্রায় অসম্ভব এক লড়াই।
শত প্রতিকূলতার মাঝেও কখনো দমে যায়নি মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেওয়া আরাফাত। স্কুলের শিক্ষকরা তার মেধা ও আগ্রহ দেখে পড়াশোনা সচল রাখতে বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সহযোগিতার হাত। বকেয়া টিউশন ফি মওকুফ করাসহ নানাভাবে তারা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। শিক্ষকদের সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রেখে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছে সে।
নিজের এই অসামান্য অর্জনের পর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আরাফাত জানায়, বাবা-মা এবং স্কুলের শিক্ষকদের সহযোগিতায় এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। কিন্তু এখন কলেজে ভর্তি এবং পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। এই বিপুল খরচ কোথা থেকে আসবে তা আমার জানা নেই। বিত্তবানদের সহযোগিতা ছাড়া আমার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন হয়তো মাঝপথেই থমকে যাবে।
ছেলের এমন অভাবনীয় সাফল্যে যেমন আনন্দিত, তেমনি তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বাবা আবু মুসাও। তিনি জানান, দিন এনে দিন খাওয়া এই সংসারে পড়াশোনার বিশাল খরচ বহনের সামর্থ্য তার নেই। মাধাইনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, এবার আমাদের স্কুল থেকে পাঁচজন জিপিএ-৫ পেয়েছে, যার মধ্যে তিনজনই অতিদরিদ্র পরিবারের। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে আরাফাতের মতো প্রতিভাবান শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে