চা-শ্রমিকরা পেল লাখ লাখ টাকা, অসুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিতরাও পেল অনুদান
বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬ ১০:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের কোনো মানুষকে পিছিয়ে রাখা হবে না। উন্নয়নের সুফল সমাজের সব স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বুধবার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানভিত্তিক নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সকাল থেকেই শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ সভাস্থলে জড়ো হন। আয়োজকদের দাবি, বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক মানুষ জনসভায় অংশ নেন। উপস্থিতদের মধ্যে চা-শ্রমিক, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য, নারী, পুরুষ, তরুণ ও বিভিন্ন পেশার মানুষ ছিলেন।
তারেক রহমান বলেন, সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে প্রণীত বাজেটকে যারা ‘গণবিরোধী’ বা ‘চানাচুরের বাজেট’ বলে অভিহিত করে, তারা জনগণের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী চা-শ্রমিক পরিবারের জন্য বসতঘর নির্মাণে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এ ছাড়া অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। সহায়তা পাওয়া ব্যক্তিরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন এবং কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।
মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ অঞ্চলের উন্নয়ন ও সম্ভাবনাকে আরও গতিশীল করবে। পাশাপাশি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন প্রত্যাশা পূরণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপকারভোগী ওয়াজেদা বেগম ও শিউলি রানী দাসও বক্তব্য দেন। তাঁরা সরকারের বিভিন্ন সহায়তামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
জনসভায় স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
১১৮ বার পড়া হয়েছে