৬ দফা দাবিতে চমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি
রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬ ৭:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ৬ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশ বাতিলের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি কার্যকর হয়।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবি আদায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. ইরফানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কর্মবিরতির ফলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশের প্রতিবাদে গত ৩ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মতো চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও আন্দোলন শুরু করেন। ৪ জুন হাসপাতালের প্রধান ফটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে হাসপাতাল পরিচালকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
দাবি বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি না হওয়ায় শনিবার দ্বিতীয় দিনের মতো মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৬ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক ১৯ মে ২০২৬ তারিখে গৃহীত এফসিপিএস (FCPS) ট্রেনিং-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ।
বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীতকরণ।
বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ।
বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
চিকিৎসকরা দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, কর্মবিরতির কারণে চিকিৎসাসেবায় যেন দীর্ঘমেয়াদি সংকট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
১৬০ বার পড়া হয়েছে