গোপালগঞ্জে শিশু নির্যাতনের অভিযোগে বেকারি কর্মচারী গ্রেফতার
রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬ ৪:৩৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জে সাত বছর বয়সী প্রথম শ্রেণীর এক মাদরাসা ছাত্রকে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শফিকুল মোল্লা (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৯ মে) রাতে গোপালগঞ্জ শহরতলীর বিসিক শিল্প নগরী এলাকার 'মধুমতি বেকারি'তে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশু সাজিদ শেখ (৭) শহরের মৌলভীপাড়া এলাকার সৌদি প্রবাসী সিরাজুল শেখের ছেলে। সে স্থানীয় এস কে আলিয়া মাদরাসার প্রথম শ্রেণীর ছাত্র। শুক্রবার সন্ধ্যার পর সাজিদ তার বাসার কাছাকাছি থানাপাড়া এলাকায় দাদার বাড়িতে যাচ্ছিল। পথে বিসিক ব্রিজের ওপর থেকে তাকে ২০ টাকা ও খাবারের লোভ দেখিয়ে ডেকে নেয় অভিযুক্ত শফিকুল মোল্লা।
পরবর্তীতে তাকে মধুমতি বেকারির দোতলায় নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় শিশুটি চিৎকার করতে গেলে শফিকুল বালিশ চাপা দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দেয়।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা অভিযুক্ত শফিকুলকে আটকে রেখে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
গ্রেফতারকৃত শফিকুল মোল্লা বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলার ভান্ডারখোলা গ্রামের মো: সিদ্দিক মোল্লার ছেলে। সে গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী এলাকার মধুমতি বেকারিতে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ছিল।
ঘটনার পর পুলিশ অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা (মেডিকেল টেস্ট) চলছে।
এই অমানবিক ঘটনার পর নির্যাতিত শিশুর মা সুরমা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত শফিকুলের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মধুমতি বেকারির মালিক মো: আরিফের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি (তদন্ত) নয়ন চন্দ্র দেবনাথ জানান:
"সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত শফিকুলকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছে। ভুক্তভোগী শিশুকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের পর আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।"
১৪৯ বার পড়া হয়েছে