ঈদযাত্রায় ট্রেনের চাহিদা বেশি, সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা স্বীকার রেলমন্ত্রীর
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ ৯:২৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ঈদের ছুটিতে ট্রেনে বাড়ি ফেরার জন্য যাত্রীদের চাহিদা অনেক বেশি থাকে।
বিশেষ করে ঢাকার বাইরে যাতায়াতে ট্রেন যাত্রা ঈদে যাত্রীদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এই চাহিদার কারণে কিছু সীমাবদ্ধতাও তৈরি হয়, কারণ যাত্রীর তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়।
রোববার সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, আন্তনগর ট্রেনে প্রতিদিন প্রায় ২৩ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। ঈদ উপলক্ষে এই সক্ষমতা আরও ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রায় চার হাজার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “লক্ষ লক্ষ যাত্রীর ট্রেনে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তাই ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”
পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেনের পরিবেশ ও যাত্রীসেবা মোটামুটি সন্তোষজনক। ট্রেনের পরিচ্ছন্নতা বজায় আছে এবং সিটিং ক্যাপাসিটির অনুযায়ী যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। তবে চাহিদা বিবেচনায় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ টিকিটও দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, সকালে তিনটি ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন হুইল স্লিপ করার কারণে দেরি হয়। ট্রেনলাইনের ওপর ধান শুকানোর খড় থাকায় চাকা স্লিপ করে এই সমস্যা তৈরি হয়। পরে ট্রেনটি উদ্ধার করে আবার চালু করা হয়। এতে দুটি থেকে তিনটি ট্রেনের সময়সূচিতে ব্যাঘাত ঘটে—একটি প্রায় ২০ মিনিট, একটি এক ঘণ্টা এবং অন্যটি প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে চলে।
ঈদের দ্বিতীয় দিনে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সকাল থেকে ভিড় তুলনামূলক কম দেখা গেছে। নির্দিষ্ট টিকিট ছাড়া অতিরিক্ত যাত্রীও তেমন দেখা যায়নি। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে কোনো যাত্রী দেখা যায়নি।
এদিকে ঈদের ছুটিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যাচ্ছেন যাত্রী সেলিম রেজা। তিনি জানান, সকাল ৯টায় টিকিটের লাইনে দাঁড়িয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর টিকিট পান। তিনি বলেন, “বনলতা এক্সপ্রেসে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু অনলাইনে টিকিট পাইনি। এখন আন্তনগর ট্রেনের টিকিট পেয়েছি। ট্রেনটি ১২টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও দেড়ি হচ্ছে।”
আরেক যাত্রী কামাল উদ্দিন স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে রাজশাহী যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আগের মতো ভিড় নেই, অনেকটা স্বস্তির মনে হচ্ছে। আগেই টিকিট কেটে রেখেছিলাম, ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে যাচ্ছি।”
রাজশাহী কমিউটার ট্রেন ছাড়তে দেরি হওয়ার বিষয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. কবীর উদ্দীন বলেন, ট্রেনটি সাধারণত কিছুটা দেরিতে পৌঁছায়। আজ আরও দেরি হয়েছে এবং আসার পরই তা আবার ছেড়ে যায়।
১০৪ বার পড়া হয়েছে