যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত পদে আলোচনায় সিলেটের মুশফিক
রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬ ৬:৫২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত কে হবেন তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
যুক্তরাজ্যে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন সিলেটের মুশফিক ফজল আনসারী। বর্তমানে তিনি মেক্সিকোয় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিক হিসেবে কাজ করার সময় মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে আলোচনায় আসেন তিনি।
মুশফিক ফজল আনসারীর পাশাপাশি রাশিয়ায় নিযুক্ত সহকারী রাষ্ট্রদূত ফয়সল আহমেদের নামও এ পদের জন্য আলোচনায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্য থেকেই একজনকে যুক্তরাজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
এর আগে শনিবার রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবীর। তিনি বলেন, একটি সুসংবাদ হলো—লন্ডনে নিযুক্ত যে হাইকমিশনার এতদিন বিভেদমূলক আচরণ ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের কমিউনিটিকে বিভক্ত করে রেখেছিলেন এবং সবকিছুতে দলীয়করণের (আওয়ামীকরণ) চেষ্টা করেছেন, তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই হাইকমিশনার কমিউনিটির স্বার্থ কিংবা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের তোয়াক্কা না করে কেবল দলীয় স্বার্থ হাসিল করতেই ব্যস্ত ছিলেন।
কমনওয়েলথের এক সফরে ব্রিটেনে এসে হিথ্রো বিমানবন্দরে নেমেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিমানবন্দরে তার সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আবিদা ইসলামকে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তবে শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি অতিরিক্ত আনুগত্য প্রদর্শনের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।
এর মধ্যে লন্ডনে বাংলাদেশ সেন্টারকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়। এ ঘটনায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি অযাচিতভাবে একটি বৈঠকের আয়োজন করেন এবং সেখানে হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটানো হয়। পরে পরিস্থিতি ঘোলাটে হলে নিজেই পুলিশ ডেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
এদিকে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে আবিদা ইসলামের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে