উত্তরাঞ্চলে চা চাষের উত্থান: পঞ্চগড় টানা দ্বিতীয় অবস্থানে
রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬ ১০:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পঞ্চগড়সহ দেশের উত্তরাঞ্চলে চা চাষের পরিধি ক্রমবর্ধমান। গত দুই বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামকে পেছনে ফেলে উন্নতমানের চা উৎপাদনে টানা দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে এই অঞ্চল। ২০২৫ সালের চা মৌসুমে গত বছরের তুলনায় ৫৮.০১ লাখ কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে। একই সঙ্গে চায়ের মান উন্নত হওয়ায় অকশন বাজারে চাহিদা ও প্রতিযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
লাভজনকতার কারণে পঞ্চগড়ের পাশাপাশি ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটে চা চাষে সম্প্রসারণ দেখা যাচ্ছে। পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে এই অঞ্চলে দুই কোটি দুই লাখ ৪২ হাজার ৫২ কেজি তৈরীকৃত চা (মেড টি) উৎপাদিত হয়েছে। পঞ্চগড়ের ৩০টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ের একটি চা কারখানায় প্রক্রিয়াজাতকরণ করে এই উৎপাদন অর্জিত হয়েছে।
চা চাষীরা জানান, শুরুতে সবুজ চায়ের দাম ভালো থাকায় অন্যান্য ফসল ত্যাগ করে চা চাষে ঝুঁকেছিলেন। তবে অতীতে কিছু চা কারখানা মালিক ও সিন্ডিকেট চা পাতার দাম কমিয়ে দিলে চাষীরা লোকসান ভোগ করেছেন। ২০২৪ সালে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাওয়ার পর চা চাষীরা আবার আশার আলো দেখেন। বর্তমানে প্রতি কেজি চায়ের দাম ৩২ থেকে ৩৭ টাকা, যা তাদের জন্য লাভজনক অবস্থান সৃষ্টি করেছে।
চা বোর্ডের তথ্যমতে, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও লালমনিরহাটে চা চাষের পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে প্রায় আড়াই কোটি কেজি চা উৎপাদনের আশাবাদ রয়েছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।
গত বছরের রেকর্ড উৎপাদনের পর নতুন চা পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে মার্চ মাসে। শীতের কারণে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি চা পাতা আহরণ বন্ধ থাকলেও এখন চা বাগানগুলোতে প্রাণ ফিরে এসেছে। মৌসুমের শুরুতে কাঁচা সবুজ চা পাতার দাম ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে বিক্রয় হচ্ছে ৩৪–৩৫ টাকা কেজি দরে।
পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত মৌসুমে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, দিনাজপুর ও নীলফামারীর ১১,৫৯৯.৮৯ একর জমিতে চা চাষ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭৩.২ একর বেশি। পঞ্চগড় জেলায় নয় হাজার ৮১৯.৭৩ একর জমিতে চা আবাদ থেকে এক কোটি ৭২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৬ কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। পাশ্ববর্তী জেলার উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য।
বর্তমানে উত্তরাঞ্চলে ৪৮টি চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা অনুমোদিত, যার মধ্যে পঞ্চগড়ে ৩০টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ে একটি কারখানা কার্যক্রম চালু। স্থানীয় কারখানাগুলো চা চাষীদের কাছ থেকে সবুজ চা কিনে প্রক্রিয়াজাতকরণ করে এবং চট্টগ্রাম ও শ্রীমঙ্গল অকশন বাজারে বিক্রি করে।
পঞ্চগড় আঞ্চলিক চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আমির হোসেন জানান, চা চাষ জেলার অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। মানসম্মত চায়ের উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অকশন বাজারে চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটলে চলতি মৌসুমে আড়াই কোটি কেজি চা উৎপাদন সম্ভব হবে।
২৩২ বার পড়া হয়েছে