মেঘনায় ডাকাতের হামলা, গুলিবিদ্ধ জেলের মরদেহ উদ্ধার
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ৪:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীর রায়পুরায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে ডাকাতের হামলার কবলে পড়ে নদীতে ঝাঁপ দেন দুই জেলে। এ সময় চানু মিয়া নামে এক জেলে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও তার ভাতিজা হেদায়েতুল্লাহ (২২) নিখোঁজ হন।
ঘটনার প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার (৭ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে মেঘনা নদীর ফকিরের চর এলকায় নিখোঁজ হেদায়েতুল্লাহর গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত হেদায়েতুল্লাহ রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ফকিরের চর এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন জেলে ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (৬ মার্চ) রাত ১২টার দিকে চানু মিয়া তার ভাতিজা হেদায়েতুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ফকিরের চর থেকে পশ্চিম দিকে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করতে যান। এ সময় দ্রুতগতির একটি স্পিডবোট তাদের নৌকার কাছে এসে থামে। স্পিডবোটে থাকা একদল ডাকাত দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে আসে।
ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পেতে চানু মিয়া ও হেদায়েতুল্লাহ নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে চানু মিয়া সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও হেদায়েতুল্লাহ নিখোঁজ হয়ে যান। এ সময় ডাকাত দলের সদস্যরা গুলি ছোড়ে বলে জানা গেছে।
ঘটনার প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি মেঘনা নদীতে হেদায়েতুল্লাহর মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয়রা গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন।
শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জালাল মিয়া জানান, ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে নদীর বিভিন্ন স্থানে নিখোঁজ হেদায়েতুল্লাহর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। শনিবার বিকেলে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত হেদায়েতুল্লাহর শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান জানান, নিহত ব্যক্তির শরীরে ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। নৌ-পুলিশ আসলে সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর বিস্তারিত বলা যাবে।
ডাকাতদের হামলা কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, নিহত হেদায়েতুল্লাহর সাথে থাকা চানু মিয়ার সাথে কথা হয়েছে, তার দেয়া তথ্য যাচাই বাছাই চলছে। পরে বিস্তারিত বলা যাবে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে