সর্বশেষ

সারাদেশ

নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরী হত্যার মূল আসামি নূরা গ্রেপ্তার

শরিফুল ইসলাম, গাজীপুর
শরিফুল ইসলাম, গাজীপুর

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার দাবি করাকে কেন্দ্র করে বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর এক কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮) গ্রেপ্তার হয়েছেন।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে গাজীপুর জেলার মাওনা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দী এলাকার মাঝামাঝি একটি সরিষাক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা বাবার কাছ থেকে অপহরণ করে কিশোরীকে হত্যা করেছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের মা মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন- নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮), এবাদুল্লাহ (৪০), হযরত আলী (৪০), মো. গাফফার (৩৭), আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), ইমরান দেওয়ান (৩২), ইছহাক ওরফে ইছা (৪০), আবু তাহের (৫০) ও মো. আইয়ুব (৩০)।

আহাম্মদ আলী দেওয়ান মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য এবং ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহসভাপতি ছিলেন। ঘটনার পর বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার বাকি চার আসামি এখনও পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগ ওঠার পর আহাম্মদ আলী দেওয়ানকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত নূরার সঙ্গে কিশোরীর কথাবার্তা ছিল। প্রায় ১৫ দিন আগে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন তরুণ কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায় এবং তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার বিচার চেয়ে পরিবার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়। তবে কোনো সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস করে অর্থ আত্মসাৎ এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে কিশোরীর পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে রওনা হন তার বাবা। পথিমধ্যে বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক জোরপূর্বক বাবার কাছ থেকে কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

সারারাত খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয়রা বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষাক্ষেতে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

১৯৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন