রূপগঞ্জে মন্দিরে হামলা: প্রতিমা ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার লুট, মালামালে অগ্নিসংযোগ
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় একটি মন্দিরে মধ্যরাতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
হামলায় প্রতিমা ভাঙচুরের পাশাপাশি স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে।
রোববার গভীর রাতে উপজেলার গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের সাওঘাট পশ্চিম মনিপাড়া এলাকায় অবস্থিত শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দির-এ এ ঘটনা ঘটে।
মন্দির কমিটির সভাপতি কালিপদ চন্দ্র দাস জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত লোহার পাইপ, লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে। তারা মন্দিরে স্থাপিত সরস্বতী প্রতিমা ভাঙচুর করে এবং চেয়ার, রান্নার পাতিল, বৈদ্যুতিক তার ও লাইটসহ বিভিন্ন সামগ্রী তছনছ করে।
অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা সরস্বতী প্রতিমার গায়ে থাকা প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। পরে কেরোসিন বা মবিল জাতীয় দাহ্য পদার্থ ঢেলে মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে মন্দিরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন মালামাল পুড়ে যায়।
হামলার শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মন্দিরের জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী সিংলাব এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি জাকির হোসেনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এর আগেও মন্দির কর্তৃপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয়দের ধারণা, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।
এ ঘটনার পর এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংখ্যালঘু ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।
১৫১ বার পড়া হয়েছে