সুনামগঞ্জে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য: বিএনপির ২৪ নেতাকর্মী বহিষ্কার
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আওতাধীন বিভিন্ন ইউনিটের ২৪ জন নেতাকর্মীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়। জেলা বিএনপির প্যাডে প্রকাশিত পৃথক পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্টরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আ. স. খালিদ, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অ্যাড. আমিরুল হক, গৌরারং ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মঈনুল হক, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য ইছাক আলী এবং পৌর বিএনপির সদস্য আব্দুল মাজিদ।
এছাড়া বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বকুল মিয়া, সদস্য ফরিদ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সদস্য উসমান গনি, যুগ্ম আহ্বায়ক রমজান আলী, সদস্য সুকেশ দেবনাথ ও বুরহান উদ্দিন, ধনপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, জাতীয়তাবাদী সৈনিক দল বিশ্বম্ভরপুর শাখার সাবেক সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান তালুকদার এবং ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মোজাম্মিল হককে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অন্যদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছলিব নূর বাচ্ছু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফরিদুর রহমান, জগন্নাথপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এম এ কয়েছ, জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আবীবুল বারী আয়হান, জগন্নাথপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রয়েল আহমেদ রাজা এবং যুবদল নেতা শামীনুর রহমানকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বহিষ্কৃত নেতাকর্মীরা জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সঙ্গে দলের কোনো পর্যায়ের নেতাকর্মীকে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কারাদেশে স্বাক্ষর করেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন এবং স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য অ্যাড. আব্দুল হক।
এর আগে, ২৬ জানুয়ারি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে নির্বাচনী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজু আহম্মেদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
একই দিন তাকে কোনো কারণ দর্শানো নোটিশ ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে দলের আটজন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেন। পদত্যাগকারীরা হলেন- সুকেশ দেবনাথ, উসমান গণী, বুরহান উদ্দিন, ধনপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন, দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বকুল মিয়া, সলুকাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বুরহান উদ্দিন, ফতেহপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মুজাম্মিল হক এবং উপজেলা যুবদলের সদস্য ও ফতেহপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। একই আসনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সহসভাপতি দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গেল ২১ জানুয়ারি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এছাড়া একই দিনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় সুনামগঞ্জ-৩ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেনকেও বহিষ্কার করে বিএনপি। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে