দক্ষিণ আফ্রিকার একাধিক দেশে ভয়াবহ বন্যা, প্রাণ গেল শতাধিকের
শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ আফ্রিকা, মোজাম্বিক ও জিম্বাবুয়েতে নদ-নদীর পানি উপচে পড়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে এবং বহু অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। এতে বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার শনিবারের (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো ও এমপুমালাঙ্গা প্রদেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঘরের ছাদ ও গাছে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। জিম্বাবুয়ের সীমান্তবর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ চেকপোস্ট থেকেও নিরাপত্তাকর্মীদের সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, কারণ চারদিক থেকে বন্যার পানি চেকপোস্টটিকে ঘিরে ফেলেছিল।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বৃহস্পতিবার লিম্পোপোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, এক সপ্তাহেরও কম সময়ে ওই অঞ্চলে প্রায় ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি বলেন, একটি জেলাতেই অন্তত ৩৬টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। লিম্পোপো প্রদেশের প্রিমিয়ার ফোফি রামাথুবা জানিয়েছেন, প্রদেশজুড়ে এক হাজারের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক।
প্রতিবেশী দেশ জিম্বাবুয়েতে চলতি বছরের শুরু থেকে বন্যায় অন্তত ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা নিশ্চিত করেছে। সেখানে এক হাজারের বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। পাশাপাশি বহু স্কুল, সড়ক ও সেতু পানির তোড়ে ভেঙে পড়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখে পড়েছে মোজাম্বিক। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছরের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অস্বাভাবিক তীব্র বর্ষা মৌসুমে সেখানে অন্তত ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে বন্যা, বজ্রপাত, অবকাঠামো ধস এবং দূষিত পানির কারণে ছড়িয়ে পড়া কলেরাজনিত প্রাণহানি।
বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, মোজাম্বিকে এই দুর্যোগে দুই লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার হাজার ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, বন্যার পানিতে ৭০ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় দেশটিতে খাদ্য সংকট আরও তীব্র হতে পারে, বিশেষ করে ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার অন্তত সাতটি দেশে বর্তমানে বন্যা দেখা দিয়েছে বা বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটির মতে, এই পরিস্থিতি লা নিনা আবহাওয়া প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, যা সাধারণত এই অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ঘটায়।
বন্যার প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত ক্রুগার ন্যাশনাল পার্কেও। সেখানে প্লাবিত ক্যাম্প থেকে প্রায় ৬০০ পর্যটক ও কর্মীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে নদীর পানি উপচে পড়ায় পার্কের বড় অংশ বর্তমানে পর্যটকদের জন্য বন্ধ রয়েছে।
১১৩ বার পড়া হয়েছে