ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে সহিংসতা চরমে, নিহত ৫ শতাধিক
সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানে টানা ১৫ দিন ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দিন দিন আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, বাস্তবে নিহত ও আটক ব্যক্তির সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে।
গত তিন দিন ধরে দেশজুড়ে ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক কল পরিষেবা বন্ধ থাকায় নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানের বড় হাসপাতালগুলোর মর্গে আর মরদেহ রাখার জায়গা নেই বলে জানা গেছে। ফলে নতুন মরদেহ গ্রহণ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ও নিহতদের ভিড়ে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক হাসপাতালে জরুরি বিভাগ ও মর্গ—দুটিই অতিরিক্ত চাপে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।
এখন পর্যন্ত ইরান সরকার হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিহতের সংখ্যা যাচাইয়ের চেষ্টা চালালেও দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় সেই উদ্যোগ সফল হয়নি। পরিস্থিতি যত দীর্ঘ হচ্ছে, আন্দোলনের তীব্রতা ও সহিংসতার মাত্রা ততই বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই গণবিক্ষোভের মূল কারণ ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মুদ্রার নজিরবিহীন অবমূল্যায়ন। বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মূল্য নেমে এসেছে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজারে, যা বিশ্বের দুর্বলতম মুদ্রাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চরম মূল্যস্ফীতির কারণে খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীরা উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দিলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দেশের ৩১টি প্রদেশে। শহর থেকে গ্রাম—সবখানেই বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বর্তমানে আন্দোলনকারীরা শুধু জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবি নয়, বরং ব্যাপক রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিও তুলছেন।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সতর্ক করে বলেছেন, দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক ভাষণে অর্থনীতি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, সরকার জনগণের অভিযোগ শুনতে প্রস্তুত। তবে এসব আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা সন্তুষ্ট নন। তারা এখনো রাজপথ ছাড়তে নারাজ, আর দেশজুড়ে অস্থিরতা ক্রমেই গভীরতর হচ্ছে।
১১৯ বার পড়া হয়েছে