সর্বশেষ

জাতীয়রাজধানীতে তেল সংকটের প্রভাবে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ যানজট
আজ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সব ফ্লাইট বাতিল
আকস্মিক হাসপাতালে পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, হতাশা প্রকাশ
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতাই বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ : সাকি
সারাদেশকুমিল্লায় মন্দির ও মসজিদের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩
জকিগঞ্জে গৃহবধূকে গণধর্ষণ: ১০ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি মূল হোতা
আন্তর্জাতিকইরানে এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ হবে আজ রাতে, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর পূর্বাভাস
খেলাআহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত-নিউজিল্যান্ডের লড়াই
খেলা

সড়ক দুর্ঘটনায় কিংবদন্তি দৌড়বিদ ফৌজা সিংয়ের মৃত্যু

স্পোর্টস রিপোর্টার
স্পোর্টস রিপোর্টার

মঙ্গলবার, ১৫ জুলাই, ২০২৫ ৯:৫০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক ম্যারাথন দৌড়বিদ ফৌজা সিং আর নেই। সোমবার (১৪ জুলাই) ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলায় নিজ গ্রাম বিয়াসের রাস্তা ধরে হাঁটার সময় এক অজ্ঞাত যানবাহনের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন তিনি।

পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ১১৪ বছর।

ফৌজা সিংয়ের জন্ম ১৯১১ সালের এপ্রিলে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ারও তিন বছর আগে। ২০১১ সালে, শততম জন্মবার্ষিকীতে তিনি টরন্টো ম্যারাথন দৌড়ে শেষ করে গড়েন অনন্য কীর্তি—১০০ বছর বয়সে ম্যারাথন সম্পন্নকারী প্রথম দৌড়বিদ হিসেবে খ্যাতি পান বিশ্বজুড়ে।

‘টার্বানড টর্নেডো’ খ্যাত এই দৌড়বিদ গত ১ এপ্রিল পালন করেছিলেন ১১৪তম জন্মদিন। দীর্ঘ ১৪ বছরের ক্রীড়া ক্যারিয়ারে (২০০০–২০১৩) তিনি ৯টি পূর্ণ ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন। ম্যারাথনের পাশাপাশি তিনি ছিলেন অ্যাডিডাসের ‘ইম্পসিবল ইজ নাথিং’ প্রচারণার পোস্টার বয়, যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মোহাম্মদ আলি ও ডেভিড বেকহ্যাম।

ছোটবেলায় হাঁটতেই পারতেন না ফৌজা। দুর্বল শরীরের কারণে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত ঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “ক্ষেতে কাজ করার মধ্য দিয়েই আমার শক্তি ফিরে আসে—আর ওয়াহেগুরুর কৃপায় আমি হেঁটে দাঁড়াতে পারি।”

১৯৯৩ সালে স্ত্রী গিয়ান কৌরের মৃত্যু এবং ছেলের সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু। ইংল্যান্ডের ইলফোর্ডে বসবাসকালে তিনি নিয়মিত হাঁটা ও দৌড়ের অভ্যাস গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে কোচ হরমন্দর সিংয়ের তত্ত্বাবধানে ২০০০ সালে ৮৯ বছর বয়সে লন্ডন ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেন এবং মাত্র ৬ ঘণ্টা ৫৪ মিনিটে দৌড় শেষ করে নতুন রেকর্ড গড়েন।

ফৌজা সিং শুধুই একজন দৌড়বিদ ছিলেন না, ছিলেন এক মানবিক ব্যক্তিত্ব। তিনি ‘ব্লিস’সহ একাধিক দাতব্য সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যারা নবজাতক ও অসহায়দের সহায়তা করতো। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ম্যারাথন ও ইভেন্টে অংশ নিয়ে তিনি দান করতেন গুরুদুয়ারায়।

তার কোচ হরমন্দর বলেন, “তিনি যখন প্রথম দৌড়াতে এসেছিলেন, তখন জানতেনই না ম্যারাথনের দূরত্ব কত। মাত্র ছয় মাসের প্রস্তুতিতেই তিনি প্রথম ম্যারাথন শেষ করেন। এরপর ১১ বছরে ৯টি ম্যারাথন সম্পন্ন করে নিজেকে করে তোলেন এক অনন্য কিংবদন্তি।”

২০০০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে তিনি লন্ডন ম্যারাথনে ছয়বার, টরন্টোতে দুইবার এবং নিউইয়র্ক ম্যারাথনে একবার দৌড়ান। ২০১৫ সালে যুক্তরাজ্যের রাণীর পক্ষ থেকে তিনি ব্রিটিশ এম্পায়ার মেডেল (BEM) পান দাতব্য ও ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে তিনি ছিলেন একজন মশালবাহক।

ফৌজার জীবনের ওপর ‘টার্বানড টর্নেডো’ নামে বই লেখেন বিশিষ্ট লেখক খুশবন্ত সিং। ফৌজাকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “তিনি শুধু একজন দৌড়বিদ ছিলেন না, ছিলেন এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। পৃথিবীর নানা প্রান্তে মানুষ তাকে ভালোবাসতো, সম্মান দিত, আর তিনি সবটুকু দান করে দিতেন সমাজের কল্যাণে।”

২০১৩ সালে হংকং ম্যারাথনে ১০ কিমি দৌড় ছিল ফৌজার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ দৌড়। এর আগে ২০১১ সালে টরন্টোতে ১০০ বছর বয়সে ম্যারাথন শেষ করেন ৮ ঘণ্টা ১১ মিনিটে। ২০১২ সালের লন্ডন ম্যারাথনে তার শেষ পূর্ণ ম্যারাথনে সময় লাগে ৭ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ২১ সেকেন্ড।

পাকিস্তানের লাহোরেও এক ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করেন ফৌজা। ১০ কিমি দৌড়ে অংশ নেওয়ায় প্রশংসা করেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফ।

ফৌজা সিংয়ের জীবন কেবল ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, মানবতা, অধ্যবসায় ও অসম্ভবকে সম্ভব করার এক জীবন্ত প্রমাণ। তার এই প্রয়াণ কেবল দৌড় জগতেরই নয়, মানবতারই অপূরণীয় ক্ষতি।

৩৮০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
খেলা নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন