সর্বশেষ

জাতীয়

ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘট, মরদেহ নিয়ে চরম ভোগান্তি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা। মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না শোকাহত পরিবারের সদস্যরা। বাধ্য হয়ে কেউ সিএনজি অটোরিকশা, আবার কেউ পিকআপ ভ্যানে করে মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার বাহন না পেয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন রোগীর স্বজনেরা।

মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেকে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় ছোটাছুটি করেন। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে সিএনজি অটোরিকশা কিংবা পিকআপ ভ্যানে মরদেহ নিয়ে যেতে দেখা যায় তাঁদের।

হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মারা যান নারায়ণগঞ্জের ৭০ বছর বয়সী হালিমা বেগম। তাঁর মৃত্যুর পর তিন ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও মরদেহ মাওয়ায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে পারেননি নাতি মো. শাহীন।

একই ভবনের মেডিসিন বিভাগে মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার দিকে মারা যান যাত্রাবাড়ীর ২২ বছর বয়সী তরুণ মো. রাসেল। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মুগদা হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

ধর্মঘটের কারণে শুধু মরদেহ পরিবহনেই সমস্যা হচ্ছে না, ভোগান্তিতে পড়েছেন গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্বজনেরাও।

খুলনা থেকে গুরুতর আহত শাশুড়িকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছিলেন আব্দুল আহাদ। চিকিৎসকেরা তাঁর শাশুড়িকে জরুরি ভিত্তিতে কিডনি হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। কিন্তু দুপুরের পর থেকে কোনো অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে পারেননি তিনি।

হাসপাতালে আসা আরেক ভুক্তভোগী নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর এক স্বজন ১৯ দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকার পর রাত ১০টার দিকে মারা যান। মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেও কোনো লাভ হয়নি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি অ্যাম্বুলেন্সের সন্ধান পেলেও সেটির জন্য অনেক টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বর থেকে সব অ্যাম্বুলেন্স বের করে দেওয়া হয়। পরে নতুন ভবনের নিচে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তাঁদের দিয়ে ওই জায়গা পরিষ্কার করানো হয়। সেখানে সিসি ক্যামেরা ও বাতিও স্থাপন করা হয়। কিন্তু পরে রহস্যজনক কারণে সেখান থেকেও অ্যাম্বুলেন্স সরিয়ে দেওয়া হয়।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘রাস্তায় গাড়ি রাখলে পুলিশ মামলা দেয়। আর হাসপাতালের ভেতরেও আমাদের জায়গা দেওয়া হচ্ছে না। সিসি ক্যামেরা ও গেট স্থাপনে আমাদের কয়েক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আমরা প্রতিটি গাড়ির বিপরীতে সরকারকে রাজস্ব দিতেও রাজি আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু ভাই, একটা কথা—আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের ধর্মঘট চলবে।’

এদিকে হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে অনেক স্বজন বাইরে থেকে গাড়ি আনার চেষ্টা করছেন। তবে ধর্মঘটের কারণে বাইরের অ্যাম্বুলেন্সও হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করতে পারছে না। ফলে মরদেহ বাড়িতে নেওয়া এবং গুরুতর রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর—দুই ক্ষেত্রেই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের।

১১৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০