নগরকান্দা মডেল মসজিদের জমির অংশ প্রাচীরের বাইরে রাখার অভিযোগ
সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা মডেল মসজিদের সামনের প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গফুট সরকারি খাসজমি সীমানাপ্রাচীরের বাইরে রেখে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। এতে জমিটি ভবিষ্যতে বেদখল হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মসজিদের সামনের পুরো অংশ সীমানার ভেতরে রেখে প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা মডেল মসজিদের সামনের সরকারি খাসজমি সীমানাপ্রাচীরের বাইরে রাখার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গফুট জমি প্রাচীরের বাইরে থাকলে ভবিষ্যতে সেখানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সরকারি জমি রক্ষায় বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে নগরকান্দা উপজেলা মডেল মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। প্রায় ৪০ শতাংশ সরকারি জমির ওপর নির্মিত মসজিদটির সামনে মুসল্লিদের চলাচল, যানবাহন পার্কিং এবং প্রয়োজনে জানাজার নামাজের জন্য প্রায় ২ হাজার বর্গফুট খোলা জায়গা রাখা হয়েছিল। মসজিদের পরিবেশ সুন্দর করা এবং মুসল্লিদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওই জায়গায় টাইলস বসানোর ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেশের অন্যান্য মডেল মসজিদের সামনেও মুসল্লিদের সুবিধার্থে এ ধরনের খোলা জায়গা রাখা হয়েছে। তবে সম্প্রতি আগের নির্ধারিত সীমানা অনুসরণ না করে মসজিদের সামনের প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গফুট জমি বাইরে রেখেই সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রাচীরের বাইরে থাকা সরকারি খাসজমিতে ভবিষ্যতে কেউ দোকানঘর বা অন্য কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারেন। তাঁদের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্ব প্রশাসনের। তাই জমিটি সীমানার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
মসজিদের সামনের জায়গাটি ব্যবহার করতে না পারলে মুসল্লিদের ভোগান্তি বাড়তে পারে বলেও মনে করছেন তাঁরা। বিশেষ করে জুমার নামাজ আদায় করতে দূরদূরান্ত থেকে অনেক মুসল্লি এই মসজিদে আসেন। সামনের খোলা জায়গা ব্যবহারের সুযোগ কমে গেলে তাঁদের চলাচল, যানবাহন রাখা ও অন্যান্য প্রয়োজনে সমস্যা হতে পারে।
এ বিষয়ে নগরকান্দা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আগের ইউএনও, এসিল্যান্ড ও ইঞ্জিনিয়াররা মসজিদের সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন। সুন্দর পরিবেশে মসজিদটি করা হয়েছিল। এখন কার স্বার্থে বা কাকে খুশি করতে উপজেলা প্রশাসন মসজিদের জায়গা বাইরে রেখে প্রাচীর দিচ্ছে, তা আমাদের মাথায় আসছে না। আমরা চাই, মসজিদের পুরোটাই সীমানার ভেতরে রেখে প্রাচীর দেওয়া হোক।”
অন্যদিকে, মসজিদের সামনের জমি বাইরে রাখার বিষয়ে নগরকান্দা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল হাসান বলেন, “মসজিদের সামনের জায়গাটি সরকারি খাস জমি, এটি মসজিদের জায়গা নয়। তাই সীমানা প্রাচীর দিয়ে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তবে জমিটি সীমানাপ্রাচীরের বাইরে রাখলে ভবিষ্যতে বেদখল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি।
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিনও বলেন, মসজিদের সামনের অংশ সরকারি খাসজমি। সেটি মসজিদের নিজস্ব জমি না হওয়ায় ওই অংশ বাদ দিয়েই সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য জানতে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
১২১ বার পড়া হয়েছে