স্মিথকে রেখে অস্ট্রেলিয়ার ৬ উইকেট তুলে নিল বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ৫:৩০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ডারউইনে প্রথম টেস্টের শুরুটা দুর্দান্ত করেছে বাংলাদেশ। স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির ব্যাটারদের একের পর এক ফিরিয়ে দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। হাসান মাহমুদ, এবাদত হোসেন ও তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়লেও উইকেটে থাকা স্টিভেন স্মিথ এখনো স্বাগতিকদের ভরসা হয়ে আছেন।
মারারা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। নিজেদের মাঠে বড় সংগ্রহ গড়ে বাংলাদেশের ওপর শুরু থেকেই চাপ তৈরি করাই ছিল স্বাগতিকদের পরিকল্পনা। তবে সেই পরিকল্পনায় শুরুতেই বাধা হয়ে দাঁড়ান বাংলাদেশের পেসাররা।
ইনিংসের ১২তম ওভারে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ। ২৩ রান করা জ্যাক ওয়েদারল্যান্ডকে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এরপর দলীয় ৫২ রানে ট্রাভিস হেডকেও বোল্ড করে ফেরান হাসান।
ওয়ানডাউনে নামা মার্নাস লাবুশেনও বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে স্বস্তিতে থাকতে পারেননি। মাত্র ১ রান করে ২০ বল মোকাবিলার পর এবাদত হোসেনের বলে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। ফলে ৬১ রানের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম তিন ব্যাটারকে হারাতে হয়।
এরপর স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন মিলে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু দলীয় ৭৪ রানে সেই জুটিতেও আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ। ১৩ রান করা গ্রিনকে মুশফিকুর রহিমের ক্যাচে পরিণত করেন বাংলাদেশের এই পেসার।
তবে পঞ্চম উইকেটে স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারে বেশ ভালো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুজনের ব্যাটে আসে ৫৫ রানের জুটি। এই জুটি অস্ট্রেলিয়াকে বিপদ থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। শেষ পর্যন্ত দলীয় ১২৯ রানে ক্যারেকে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙেন এবাদত। ৪৩ বলে ১৯ রান করেন অস্ট্রেলিয়ার এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
ক্যারেকে হারানোর পরও স্বস্তিতে থাকতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। ষষ্ঠ উইকেটে স্মিথের সঙ্গে ২৩ রানের জুটি গড়েছিলেন বিউ ওয়েবস্টার। এবারও সরাসরি বোল্ড করে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে আঘাত করেন তাসকিন। সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা ওয়েবস্টারকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেন তিনি।
এর আগে প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়ার চারটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছিল। ২২তম ওভারের শেষ বলে চতুর্থ উইকেট পড়ার পর লাঞ্চের ঘোষণা আসে। স্বাগতিকদের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে প্রথম সেশনে চার উইকেট নেওয়া বাংলাদেশের জন্য নিঃসন্দেহে ছিল বড় সাফল্য।
লাঞ্চের পর অবশ্য স্মিথ ও ক্যারে মিলে অস্ট্রেলিয়াকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছিলেন। তবে এবাদত ও তাসকিনের পরপর আঘাতে সেই প্রতিরোধও ভেঙে যায়।
প্রতিবেদন লেখার সময় দ্বিতীয় সেশনে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪১ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬২ রান। স্টিভেন স্মিথ ৫৫ রানে অপরাজিত আছেন। তাঁর সঙ্গে ব্যাট করছেন প্যাট কামিন্স, যাঁর সংগ্রহ ২ রান।
বাংলাদেশের জন্য অবশ্য আক্ষেপও আছে। স্মিথের একটি ক্যাচ তানজিদ হাসান তামিমের হাতে উঠেছিল। সেটি তালুবন্দী করতে পারলে অস্ট্রেলিয়া আরও বড় বিপদে পড়তে পারত। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পর স্মিথই এখন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন পিচে বাংলাদেশের পেসাররা কেমন করবেন, ম্যাচ শুরুর আগে তা নিয়ে ছিল নানা আলোচনা। তৃতীয় পেসার হিসেবে খালেদ আহমেদ নাকি এবাদত খেলবেন, সেটিও ছিল আলোচনার বিষয়। শেষ পর্যন্ত একাদশে সুযোগ পাওয়া এবাদত প্রথম সেশনেই লাবুশেনকে ফিরিয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। হাসান মাহমুদ ও তাসকিনও তাঁকে দারুণভাবে সঙ্গ দিচ্ছেন।
১২৭ বার পড়া হয়েছে