কুমিল্লায় মে মাসে এইডসে ৩ জনের মৃত্যু, সংক্রমণ বৃদ্ধির উদ্বেগ
শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬ ৮:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুমিল্লায় গত মে মাসে এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে জেলায় মোট সাতজনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন রোগীদের মধ্যে যৌনবাহিত সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালের এইচআইভি-এইডস এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের কাউন্সেলর কাম অ্যাডমিন মো. আরিফ হাসান জানান, বর্তমানে কুমিল্লা জেলায় ৩৮৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তি নিয়মিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ মে ৩৫ বছর বয়সী একজন, ১৩ মে ৪৯ বছর বয়সী একজন এবং ২৫ মে ২১ বছর বয়সী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃত তিনজনই কুমিল্লার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একজন ২০২১ সালে এইচআইভি আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছিলেন। অন্য দুইজনের ক্ষেত্রে রোগটি শেষ পর্যায়ে গিয়ে শনাক্ত হয়।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দুইজন, মার্চে একজন, এপ্রিলে একজন এবং মে মাসে তিনজনসহ মোট সাতজন এইচআইভি-এইডসজনিত কারণে মারা গেছেন।
কুমেক হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী জানান, তার স্বামী এইচআইভি আক্রান্ত ছিলেন, তবে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখেছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর পর পরীক্ষা করে তিনিও এইচআইভি পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। বর্তমানে একটি শিশুসন্তান নিয়ে নানা সামাজিক ও পারিবারিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন।
এইচটিসি/এআরটি সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ৬৭২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৭ জন এইচআইভি পজিটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন একই সঙ্গে যক্ষ্মা (টিবি) রোগেও আক্রান্ত।
নতুন শনাক্তদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ১৮ জন পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে, ৩ জন বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে এবং ২ জন বিদেশে অবস্থানকালে সংক্রমিত হয়েছেন।
মো. আরিফ হাসান বলেন, বর্তমানে নতুন শনাক্ত রোগীদের অধিকাংশই যৌনবাহিত সংক্রমণের মাধ্যমে আক্রান্ত হচ্ছেন। ২০১৯ সাল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৯১ জন পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্কের মাধ্যমে, ৪০ জন পুরুষ যৌনকর্মী, ৪৯ জন প্রবাস থেকে ফেরার পর, ৪১ জন আক্রান্ত জীবনসঙ্গীর মাধ্যমে এবং ২১ জন নারী যৌনকর্মীর মাধ্যমে সংক্রমিত হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ হাজার ৬৪৬টি এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ২৭৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪০ জন টিবিতেও আক্রান্ত ছিলেন। একই সময়ে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৩ জন চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
বর্তমানে এআরটি সেন্টারের আওতায় মোট ৬১৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এইচআইভি আক্রান্তদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করলে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত প্রায় দুই বছর ধরে এই সেবার সঙ্গে যুক্ত কাউন্সেলর ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। এরপরও তারা রোগীদের সেবা প্রদান অব্যাহত রেখেছেন।
১৫৫ বার পড়া হয়েছে