শোলাকিয়ায় ঈদুল আজহার জামাতকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ ১০:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১৯৯তম ঈদুল আজহার জামাত। ঈদের দিন সকাল ৯টায় একমাত্র জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে।
ইতোমধ্যে ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন।
ঈদের জামাতকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন। এছাড়া পুরো ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হবে।
দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের যাতায়াত সহজ করতে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে ‘শোলাকিয়া স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে।
ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ঈদগাহ মাঠের কিছু অংশে বৃষ্টির পানি জমে আছে। তখনো হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও মুসল্লিদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর জন্য মাঠে দাগ কাটা কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ধারাবাহিকভাবে এ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে নামাজ আদায় করেন।
করিমগঞ্জ থেকে আসা কুতুবউদ্দিন বলেন, “আমার দাদা এখানে নামাজ পড়তেন, বাবা আমাদের নিয়ে আসতেন। এখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে আসি। এবারও ঈদে আসব।”
ইটনা থেকে আসা রহিম মিয়া বলেন, “বৃষ্টি হলেও সমস্যা নেই, আগেও ভিজে নামাজ পড়েছি। এবারও সেই প্রস্তুতি নিয়েই আসব ইনশাআল্লাহ।”
সদর উপজেলার আমিন সাদী বলেন, “ঐতিহাসিক এ মাঠে লক্ষাধিক মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন। এ স্থানটি ইউনেস্কোর ঐতিহ্যবাহী স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য।”
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, “ঈদগাহ এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াচ টাওয়ার, ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুরো এলাকা কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থাকবে।”
তিনি আরও জানান, মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া অতিরিক্ত কোনো সামগ্রী নিয়ে ঈদগাহে প্রবেশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, “দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে বিশেষ ট্রেন চালু থাকবে। পাশাপাশি মুসল্লিদের জন্য ওজু ও খাবার পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, জনশ্রুতি অনুযায়ী ১৮২৮ সালে প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে এখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। সেই থেকেই এ মাঠের নাম ‘সোয়ালাখিয়া’, যা পরবর্তীতে শোলাকিয়া নামে পরিচিতি লাভ করে।
১৭৯ বার পড়া হয়েছে