সর্বশেষ

সারাদেশ

জয়পুরহাট–সান্তাহার রেলপথে ভাঙা স্লিপার: ঝুঁকিতে চলাচল, বড় ট্রেন দুর্ঘটনার শঙ্কা

স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট
স্টাফ রিপোর্টার, জয়পুরহাট

রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:৫৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলপথের জয়পুরহাট অংশে দ্রুতগামী আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দিনাজপুরের বিরামপুর রেলগেট থেকে বগুড়ার সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত প্রায় ৬৩.৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণ সংকট বিরাজ করছে। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বিরামপুর রেলগেট থেকে সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত এই পথে প্রতিদিন প্রায় এক ডজন আন্তঃনগর ট্রেনসহ সব মেইল ট্রেন চলাচল করে। তবে জয়পুরহাটের তিলকপুর, জামালগঞ্জ, পাঁচবিবি, বাগজানা এবং দিনাজপুরের বিরামপুর ও হিলি হাকিমপুর অংশে রেললাইনের শত শত কংক্রিটের স্লিপার ভেঙে গেছে। এসব স্লিপারের ভেতরের রড বের হয়ে আছে এবং অনেক স্থানে রেললাইন আটকানোর প্যান্ড্রল ক্লিপও অনুপস্থিত। পাশাপাশি রেললাইনের জোড়াগুলোর অবস্থাও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেললাইনের আশপাশে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ট্রেন চলাচলের সময় লাইনের নিচের মাটি নরম হয়ে যায় এবং ট্রেনের চাপে রেললাইন ওঠানামা করে। এতে মনে হয় যেকোনো সময় লাইনচ্যুতি ঘটতে পারে। মাঝে মাঝে মেরামত করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত ১৮ মার্চ ঈদুল ফিতরের মাত্র দুই দিন আগে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন আদমদীঘির বাগবাড়ি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী আহত হন। পরবর্তীতে ২১ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। ওই ঘটনার পর থেকে বাগবাড়ি দুর্ঘটনাস্থল এলাকায় সব ট্রেনই ধীরগতিতে চলাচল করছে।

পাঁচবিবি উপজেলার কোকতারা গ্রামের কৃষক শাহআলম, মিজানুর, রফিকুল ও মোজাহিদসহ স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, অন্তত পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে রেললাইনের কংক্রিট স্লিপার ভেঙে গেলেও তা মেরামত করা হয়নি। তাদের দাবি, রেললাইনের নিচে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ট্রেন পার হওয়ার সময় জায়গাটি দেবে যায় এবং লাইনে ওঠানামা দেখা দেয়। অনেক সময় বস্তা দিয়ে অস্থায়ীভাবে মেরামত করেও ট্রেন পার করা হয়। এছাড়া লাইনের পাথর নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বৃষ্টিতে মাটি মিশে তা আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে।

রেল বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিরামপুর রেলগেট থেকে সান্তাহার পোতা রেলগেট পর্যন্ত রেলপথে প্রয়োজনীয় জনবলের বড় ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদ শূন্য রয়েছে। ১০টি কী-ম্যান পদের মধ্যে কেউ নেই, অথচ এসব কর্মীর কাজ প্রতিদিন সকাল ৭টার মধ্যে রেললাইন পরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া। বর্তমানে অন্য পদের কর্মীরা সেই দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া চারটি ট্রলিম্যান পদের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন, তিনটি নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে আছেন একজন। দুটি বেলম্যান পদের সবগুলোই শূন্য এবং তিনটি হ্যামারম্যান পদের মধ্যে আছেন মাত্র একজন। ফলে জনবল সংকটের কারণে রেললাইন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রেললাইনের এসব সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে পাকশী রেলওয়ে বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) ভবেশ চন্দ্র রাজবংশী বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং স্থায়ী সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত কাজ শুরু হলে ট্রেন চলাচল নিয়ে সব ধরনের শঙ্কা দূর হবে।
 

১৭১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন