সর্বশেষ

সারাদেশ

কুয়াকাটায় বৈশাখী ঝড়ে ১৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড, কোটি টাকার ক্ষতি

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া, পটুয়াখালী
এ এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া, পটুয়াখালী

মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ ৯:২০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের লেম্বুর বনে কাল বৈশাখী ঝড়ে শুটকি, খাবার হোটেল, ঝিনুক ও ফিস ফ্রাইসহ জেলেদের বাসা মিলিয়ে ১৫টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

১৬ মার্চ (সোমবার) রাতে সবাই যখন সবে কদরের ইবাদতে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে রাত পৌনে একটার দিকে ঝড় শুরু হয়। ঘন্টাব্যাপী এ ঝড়ো বাতাসে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তছনছ হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ পরিদর্শন শেষে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কাজ করছেন।

মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নাসির জোমাদ্দার, নাসির আকন, আলাউদ্দিন জোমাদ্দার, মহিবুল জোমাদ্দার, রাসল জোমাদ্দার, মালেক মৃধা, ইকবাল, জহিরুল ইসলাম, নুর আলম, রাকিব জোমাদ্দার, সিদ্দিক মৃধা, নাইম আকন, মামুন সিকদার, আসলাম, শাহালম ও ইয়াসিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭টি দোকান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা গণমাধ্যমকে জানালেও স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় কোটি টাকার মতো।

ক্ষতিগ্রস্ত রাকিব জোমাদ্দার বলেন, "সমুদ্রের কোলঘেষে আমাদের শুটকির দোকান। সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে রাতের সবে কদরের ইবাদতে মসজিদে ছিলেন। মোনাজাতের সময় হঠাৎ ঝড় ওঠে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।"

ফিস ফ্রাইয়ের দোকানদার নুর আলম জানান, "আমার ফিস ফ্রাইয়ের দোকানটি ঝড়ে সম্পূর্ণ দুমড়ে মুচড়ে গেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন ক্ষতি আমাদের চিন্তায় ফেলেছে।"

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নাসির জোমাদ্দার বলেন, "রাতে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দোকানের টিন উড়ে যায়। সকালে দেখি সব শেষ—মালামাল নষ্ট, দোকান ভেঙে গেছে। প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।"

আরেক ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, "আমাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন এই দোকান। ঝড়ে সব ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়েছি। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন।"

স্থানীয় বিএনপি নেতা আলী আক্কাস জানান, "লেম্বুর বন এলাকায় অর্ধশতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। পর্যটক নির্ভর এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারের ঈদ আনন্দ ধুলোয় মিশে গেছে। সরকারি সহায়তা পেলে এ ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়া যেত।"

অপরদিকে, কাল বৈশাখী ঝড়ে কলাপাড়া উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় দুই শতাধিক কাচা ও আধা কাচা ঘরবাড়ি বিধস্ত হয়েছে। কয়েক হাজার গাছপালা ভেঙে ও উপড়ে গেছে বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে। এছাড়া সহস্রাধিক ঘরবাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে এবং অসংখ্য গাছপালা উপড়ে গেছে। রাত থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলাপাড়া উপজেলা।

উপজেলার ধানখালী, বালিয়াতলী, ডালবুগঞ্জ, টিয়াখালী ও লতাচাপলী ইউনিয়নের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। তবে ঠিক কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনও উপজেলা প্রশাসন নিরূপণ করতে পারেনি। অনেক হতদরিদ্র মানুষ ঘর মেরামত করতে না পেরে চরম সমস্যায় পড়েছেন। ফলে তাদের ঈদ আনন্দ শেষ হয়ে গেছে। তারা সরকারী সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কাউছার হামিদ বলেন, "আমরা ঘটনাটি জানেছি। আরো খোঁজ নিয়ে দেখছি। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

স্থানীয়রা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

১০৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন