বরিশালে দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ ৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় অ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন দেওয়ার পর দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি জনস্বার্থে পুলিশ প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে, এবং আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
আদালত পর্যবেক্ষণ করেছেন, প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি পুরো ঘটনাটি স্বাধীনভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়ত উল্লাহ্ সোমবার এই নির্দেশ দেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করে আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ঘটনাটিতে নার্সদের গাফিলতির বিষয়টি সামনে এসেছে।
এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণেই আদালতের নজরে এ ঘটনা এসেছে।
আদালত উল্লেখ করেছেন, জনস্বার্থ ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে শুধু প্রশাসনিক তদন্তই নয়, পুরো ঘটনাটি নিয়ে একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, চিকিৎসা সেবার সঙ্গে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত। একজন অসুস্থ মানুষ চিকিৎসক ও হাসপাতালের ওপর আস্থা রেখে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সেই আস্থার সামান্য অবহেলাও রোগীর সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের শামিল হতে পারে এবং তা একজন মানুষের জীবনকে বিপন্ন করতে পারে।
এ ধরনের অবহেলা দণ্ডবিধির ৩০৪ক, ৩৩৬, ৩৩৭ ও ৩৩৮ ধারার আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সকালে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় অ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন দেওয়ার পর দুই নারী রোগীর মৃত্যু হয়।
মারা যাওয়া দুই রোগী হলেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডাবলুগঞ্জ গ্রামের মান্নানের স্ত্রী সেফালী বেগম (৬০) এবং বরিশাল বিমানবন্দর থানার কাশীপুর এলাকার মৃত বাবু হাওলাদারের স্ত্রী হেলেনা বেগম (৪৫)।
স্বজনদের জানিয়েছে, সেফালী বেগমের গালে টিউমার এবং হেলেনা বেগমের থাইরয়েড সমস্যার কারণে রবিবার সকাল সাড়ে আটটায় তাঁদের অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ওয়ার্ডের নার্স তাঁদের শরীরে ‘নরকিউ’ ১০ মিলিগ্রাম অ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন দেন। ইনজেকশন দেওয়ার দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে দুই রোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মশিউল মুনীর বলেন, অস্ত্রোপচারের আগে কিছু নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। তবে দায়িত্বে থাকা নার্সরা নির্ধারিত সময়ের আগেই অ্যানেসথেসিয়া ইনজেকশন প্রয়োগ করেছেন, যা গুরুতর গাফিলতি। এর ফলে দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে সহকারী অধ্যাপক আমিনুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত রোগীদের স্বজনদের থানায় মামলা করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
১২৬ বার পড়া হয়েছে