বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে তৎপরতা। বিশেষ করে বিএনপির সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী কে হতে পারেন— তা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও নগরবাসীর মধ্যে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
এ প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও তৃণমূল পর্যায়ের আলোচনায় উঠে আসছে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাবেক সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের নাম।
সিলেটের বিভিন্ন মহলের মতে, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখা এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে ত্যাগের নজির স্থাপন করায় তাকে মেয়র পদে দেখতে চান অনেকেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত কয়েকটি অনানুষ্ঠানিক জরিপেও তার জনপ্রিয়তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।
ফেসবুকে এক মন্তব্যে আব্দুল আলীম নামে এক নাগরিক লিখেছেন, দল যদি ন্যায়বিচার করে, তবে অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। অন্যদিকে ইকবাল আহমদ নামের আরেকজন মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করা নেতাদের মধ্যে জামান অন্যতম।
আব্দুল মুত্তালিব নামে আরেক ভোটার তার মন্তব্যে বলেন, তার অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা তাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করে তোলে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ ও আপসহীন আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত। অতীতে তিনি একাধিকবার দলের সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। ২০১৪ সালে সম্ভাব্য প্রার্থী হয়েও দলের নির্দেশে তিনি আরিফুল হক চৌধুরীকে সমর্থন দেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে মনোনয়ন পেলেও দলের সিনিয়র নেতা মরহুম দিলদার হোসেন সেলিমের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনের সময়ও তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলেন। তবে দল আরিফুল হক চৌধুরীকে মনোনয়ন দিলে তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন বলে নেতাকর্মীরা জানান।
সাংবাদিক ও সংগঠক নিজাম উদ্দিন টিপু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, আধুনিক ও নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে আপসহীন নেতৃত্ব প্রয়োজন। তার মতে, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সামসুজ্জামান জামানের ভূমিকা তাকে রাজনৈতিকভাবে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছে।
তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী তাকে ‘জিয়া পরিবারের ভ্যানগার্ড’ হিসেবেও উল্লেখ করেন। তাদের দাবি, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণআন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের সময় একাধিক মামলা, কারাবরণ এবং হামলার শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তারা।
সাধারণ নগরবাসীর অনেকে মনে করেন, অতীতে রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে তিনি সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান ও সামাজিক সম্পৃক্ততার কারণে সিলেটের মানুষের সঙ্গে তার একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশের বিশ্বাস, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনোনয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত বিবেচনায় নেবেন। তাদের মতে, সৎ ও ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সিসিক নির্বাচনে বিএনপি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারে।
আসন্ন সিসিক নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এর মধ্যেই অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামানের নাম তৃণমূলের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
১৫০ বার পড়া হয়েছে