ভৈরবে তেল সরবরাহ বন্ধ: যমুনা ডিপো ইনচার্জ অবরুদ্ধ, ৪ ঘণ্টা পর সমঝোতা
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬ ৬:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় যমুনা অয়েল কোম্পানির ডিপো ইনচার্জকে প্রায় চার ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন স্থানীয় তেল পরিবেশক ব্যবসায়ীরা। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে পরিস্থিতির সমাধান হলে ব্যবসায়ীরা ডিপো এলাকা ত্যাগ করেন।
বুধবার (১১ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে মেঘনা ত্রি-সেতু সংলগ্ন ডিপোঘাট এলাকায় স্থানীয় তেল পরিবেশক ও এজেন্ট ডিলাররা অবস্থান নেন। এ সময় যমুনা ডিপোর ইনচার্জ মো. মতিউর রহমানকে অবরুদ্ধ করে তেল সরবরাহের দাবি জানান তারা। প্রায় চার ঘণ্টা পর দুপুর ১টার দিকে জ্বালানি সরবরাহের আশ্বাস পেয়ে অবরোধ তুলে নেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ডিপোর সামনে বিভিন্ন জেলার শতাধিক ট্যাংক লরি তেল নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে ডিপোগুলো থেকে শুধু ফিলিং স্টেশন বা পাম্প মালিকদের চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ডিপো কর্তৃপক্ষ জানায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী বর্তমানে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় স্থানীয় এজেন্ট ডিলারদের তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে ডিলার ও এজেন্টরা বলছেন, এ সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে জ্বালানি তেলের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে এবং এতে তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইরানকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব দেশের বিভিন্ন ডিপোর মতো ভৈরবের ডিপোগুলোতেও পড়েছে।
ভৈরব বন্দরে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির তিনটি বড় ডিপো রয়েছে। মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত এসব ডিপো থেকে কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর, নরসিংদী, গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হবিগঞ্জ ও কুড়িগ্রামসহ অন্তত ১০টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়।
জানা গেছে, তেল ব্যবসায় মূলত দুই ধরনের ডিলার রয়েছে—ফিলিং স্টেশন (পাম্প) ডিলার ও এজেন্সি ডিলার। ভৈরবে স্থানীয়ভাবে ২৭ জন এজেন্সি ডিলার রয়েছেন। তারা ডিপোতে তেল নিতে এসে সরবরাহ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেককে ডিপোর সামনে প্রতিবাদ করতে ও উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়।
একাধিক ডিলার জানান, শতাধিক ট্যাংক লরি দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করলেও রেশনিং পদ্ধতিতে কম তেল পাওয়ায় অনেকেই তেল নিতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। কারণ পূর্ণ ট্যাংক ভর্তি না করে দূরবর্তী জেলায় গেলে পরিবহন খরচ উঠে আসে না। আবার কম তেল নিয়ে গেলে স্থানীয় চাহিদাও পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ভৈরব ট্যাংকলরি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডিপোতে কোনো রেশনিং ছিল না। কিন্তু রোববার থেকে শুধু পাম্পগুলোর জন্য সীমিত পরিমাণ তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন।”
ভৈরব জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হোসেন আলী বলেন, “আমরা সারা বছর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেল সরবরাহ করি। বিশেষ করে এখন বোরো মৌসুমে কৃষি সেচের জন্য তেলের চাহিদা বেশি। তেল না পেলে কৃষকদের বড় ক্ষতি হবে। তাই আমরা তেলের দাবিতে ডিপো ইনচার্জকে অবরুদ্ধ করি। পরে কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী তেল দেওয়ার আশ্বাস দিলে আমরা সরে যাই।”
এ বিষয়ে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড ভৈরব ডিপোর ইনচার্জ মো. মতিউর রহমান বলেন, “গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। তবে কিছু ডিলার অতিরিক্ত তেল মজুত করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রেশনিং পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দেয়। এখন আগের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় এজেন্টদের তেল না দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও আজ কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সমাধান করা হয়েছে।”
১৯৫ বার পড়া হয়েছে