১৭৫ দিন পর জামিনে মুক্ত ভাঙ্গার ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিক মিঞা
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬ ৩:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে ১৭৫ দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা (৫৭)।
রোববার (৮ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।
কারামুক্তির পর জেলগেটে তাকে স্বাগত জানান ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় তারা একে অপরকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ম. ম. সিদ্দিক মিঞা ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এছাড়া আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা-সালথা) সংসদীয় আসনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ‘ইউনিয়ন রক্ষা আন্দোলনের’ প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন তিনি।
গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশের দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
কারামুক্তির পর প্রতিক্রিয়ায় সিদ্দিক মিঞা বলেন, তার মুক্তির জন্য নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞ।
এদিকে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল রোববার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে লিখেছেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা কথা দিয়েছিলাম ভাঙ্গার ইউনিয়ন রক্ষার আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সবাইকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করবো। আলহামদুলিল্লাহ, আজ সিদ্দিক চেয়ারম্যান মুক্ত হয়েছেন। আমি নিজে জেলগেটে থেকে তাকে গ্রহণ করেছি।”
উল্লেখ্য, ভাঙ্গা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচন কমিশন গত ৪ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নবাসীসহ ভাঙ্গার বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন আন্দোলনে নামে। এক পর্যায়ে টানা চার দিন মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।
পরে আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভাঙ্গায় মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধের ঘোষণা দেন সিদ্দিক মিঞা। কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন পুনরায় ফরিদপুর-৪ আসনের অন্তর্ভুক্ত হয়। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওই দুই ইউনিয়নের ভোটাররা ফরিদপুর-৪ আসনেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
১১৫ বার পড়া হয়েছে