গাইবান্ধায় এজাহার গ্রহণে গড়িমসি অভিযোগ, আইজিপির কাছে লিখিত অভিযোগ
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬ ২:৩৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এজাহার গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) সকালে গাইবান্ধা সদর উপজেলার উজির ধরনীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা এএইচএম জিয়াউর রহমান খান ডাকযোগে পুলিশ সদর দপ্তরে অভিযোগপত্র পাঠান। অভিযোগের অনুলিপি গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও রংপুর রেঞ্জের ডিআইজির কাছেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জিয়াউর রহমান খানের বাড়ির কেয়ারটেকার ও একই এলাকার বাসিন্দা মোছা. নূরুন নাহার স্থানীয় কয়েকজনের হাতে শারীরিক নির্যাতন, মারধর, শ্লীলতাহানি ও জোরপূর্বক আটকে রাখার ঘটনার শিকার হন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার পর নূরুন নাহার ১৯ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদর থানায় গিয়ে একটি লিখিত এজাহার জমা দিতে চাইলে থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার পরামর্শ দেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধির (সিআরপিসি) ১৫৪ ধারা অনুযায়ী কোনো জ্ঞাত অপরাধের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট থানার তাৎক্ষণিকভাবে এজাহার গ্রহণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই বিধান মানা হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।
ন্যায়বিচার না পাওয়ার হতাশা ও সামাজিক চাপে পড়ে ভুক্তভোগী নূরুন নাহার ২৫ ফেব্রুয়ারি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ায় তার জীবন রক্ষা পায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ঘটনার ন্যায়বিচার দাবিতে ২৬ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে স্থানীয় ও অনলাইন বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগকারী এএইচএম জিয়াউর রহমান খান বলেন, “আমি আশা করি প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করবে এবং ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাবেন।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের তেমন কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা হয়েছে এবং ৫২ জনের স্বাক্ষরযুক্ত একটি মীমাংসা পত্র থানায় জমা দেওয়া হয়েছে। তবে সেই মীমাংসা পত্রে এএইচএম জিয়াউর রহমান খানের স্বাক্ষর রয়েছে কি না—তা আমার জানা নেই।”
১১৬ বার পড়া হয়েছে