আতঙ্ক নয়, জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত, এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি নিশ্চিত
রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬ ৮:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে দেশে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হলেও বাস্তবে মজুত ও সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জ্বালানি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে এবং এপ্রিল পর্যন্ত আমদানি কার্যক্রমও নিশ্চিত করা হয়েছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি তেলবাহী জাহাজ থেকে তেল খালাসের কাজ চলছে। আগামীকাল সোমবার আরও দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, চীনা জাহাজে নিষেধাজ্ঞা না থাকায় হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা দেশের জ্বালানি আমদানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এপ্রিল পর্যন্ত দুই লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে, যার কিছু অংশ ইতোমধ্যে দেশে আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ব্রুনাই থেকে আরও এক লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রায় ৫০ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো ফার্নেস অয়েলের মজুতও রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, দেশে ব্যবহৃত পেট্রোলের প্রায় পুরোটা এবং অকটেনের বড় অংশই দেশেই উৎপাদিত হয়। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল উৎপাদন করা হয় এবং এর সঙ্গে আমদানি করা অকটেন বুস্টার মিশিয়ে অকটেন তৈরি করা হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি ও কয়েকটি বেসরকারি রিফাইনারি কনডেনসেট থেকে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ১৬ লাখ টন, যেখানে দেশে পেট্রোল ও অকটেনের বার্ষিক চাহিদা প্রায় আট থেকে সাড়ে আট লাখ টন।
তবে গুজব ও আতঙ্কের কারণে গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে ভিড় বেড়ে যায়। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ রাখতে হয়েছে।
রাজধানীর কয়েকটি পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের লম্বা সারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে চালকদের। অনেক পাম্পে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করা হয়েছে। খুলনা, সিলেট, রাজশাহী ও নোয়াখালীতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। অনেক জায়গায় মোটরসাইকেলে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা এবং গাড়িতে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি।
পেট্রোল পাম্প মালিকরা বলছেন, সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার ও শনিবার ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পাম্পে তেলের মজুত কম ছিল। এর সঙ্গে আতঙ্কে অতিরিক্ত তেল কেনা যুক্ত হওয়ায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, ছুটির দিনেও সীমিত আকারে ডিপো খোলা থাকলে ভোগান্তি কম হতো।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা এবং কিছু ক্ষেত্রে মজুত করার প্রবণতার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। নাটোরের সিংড়ায় মাটির নিচে ১০ হাজার লিটার ডিজেল মজুত করায় এক ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে।
এদিকে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানির সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরার পর বিদ্যুৎমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নতুন জাহাজ আসায় সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। তিনি বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় রেশনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তবে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ডিপো থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পেট্রোল পাম্পগুলোর পরিস্থিতিও দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
১১৪ বার পড়া হয়েছে