সর্বশেষ

জাতীয়রাজধানীতে তেল সংকটের প্রভাবে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ যানজট
আজ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সব ফ্লাইট বাতিল
আকস্মিক হাসপাতালে পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, হতাশা প্রকাশ
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতাই বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ : সাকি
সারাদেশকুমিল্লায় মন্দির ও মসজিদের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩
জকিগঞ্জে গৃহবধূকে গণধর্ষণ: ১০ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি মূল হোতা
আন্তর্জাতিকইরানে এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’ হবে আজ রাতে, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর পূর্বাভাস
খেলাআহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আজ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত-নিউজিল্যান্ডের লড়াই
সারাদেশ

জকিগঞ্জে গৃহবধূকে গণধর্ষণ: ১০ মাসেও গ্রেপ্তার হয়নি মূল হোতা 

স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট

শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ৯:৩৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সিলেটের জকিগঞ্জে ছয় সন্তানের জননী এক গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনার প্রায় দশ মাস পার হলেও এখনো গ্রেপ্তার হয়নি মূল অভিযুক্ত আব্দুর রহমান (৪৫) ও তার সহযোগীরা।

একাধিক মামলার আসামি এই চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী এই ‘ডাকাত’ ও তার বাহিনীর ভয়ে পুরো এলাকা আতঙ্কিত। তবে স্থানীয় থানা পুলিশ বলছে তারা তাকে চেনেন না।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ৫ মে দিবাগত রাতে। জকিগঞ্জ উপজেলার খাদিমান গ্রামের বাসিন্দা মিনু বেগম (ছদ্মনাম) সেদিন রাতে সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তার ভাসুর আহমদ সাইফুর রহমান ছয়েফ কান্নাকাটি করে জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং মিনুকে সেখানে যেতে হবে। সরল বিশ্বাসে ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই ওত পেতে থাকা সামছুল হকের ছেলে চিহ্নিত ডাকাত আব্দুর রহমান এবং তার সহযোগী সুয়েব আহমদ মিনুর মুখ চেপে ধরে। পরে অস্ত্রের মুখে তাকে পার্শ্ববর্তী একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করা হয়।

ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় মিনু বেগমকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়। তবে স্থানীয় থানায় মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে ভুক্তভোগী নারী ২০২৫ সালের ১৩ মে আদালতে মামলা (নং- ১৭৭/) দায়ের করেন। আদালত মামলাটির তদন্তভার বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে দিয়েছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুর রহমান জকিগঞ্জ এলাকার একটি আতঙ্কের নাম। পেশায় তিনি একজন পেশাদার ডাকাত ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে জকিগঞ্জ থানায় ডাকাতি, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদক এবং ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। ২০১৬ সালে বিপুল পরিমাণ মাদকের চালানসহ তিনি বিজিবির হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। সেই মামলার জব্দ করা গাড়িটি এখনো থানায় পড়ে আছে বলে জানা গেছে।

ডাকাতি ও মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে ওঠা আব্দুর রহমান বর্তমানে কোটিপতি বলে স্থানীয়দের দাবি। তার নিজস্ব একটি বাহিনীও রয়েছে। তার মালিকানায় দুটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকার রয়েছে, যা মূলত মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আইনি সুরক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যে তার একটি প্রাইভেটকার সিলেটের একজন আইনজীবীকে ব্যবহারের জন্য দিয়েছেন বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।

গণধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূ কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, “ঘটনার ১০ মাস হয়ে গেছে। আব্দুর রহমান ও তার বাহিনী বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। তারা আমার পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আমার মেয়েদেরও ধর্ষণের ভয় দেখাচ্ছে। এলাকার মানুষ তাদের ভয়ে আমার পাশে দাঁড়াতে পারছে না।”

আব্দুর রহমান বাহিনীর হাতে আগে ডাকাতির শিকার হওয়া জামাল উদ্দিন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, তার বিরুদ্ধে মামলা করায় তাকেও বারবার হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একবার হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, এলাকায় আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তাকে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

এদিকে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাকের বক্তব্য নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। কারণ আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই থানায় একাধিক মামলার চার্জশিট থাকলেও ওসি দাবি করেছেন, “তিনি আব্দুর রহমানকে চেনেন না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সঙ্গে আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণেই তিনি এখনো গ্রেপ্তার এড়াতে পারছেন।

অন্যদিকে পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ খালেদ-উজ-জামান জানিয়েছেন, মামলাটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, একজন চিহ্নিত ডাকাত ও ধর্ষণের অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে—এটি জকিগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির একটি ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এলাকার ‘ত্রাস’ হিসেবে পরিচিত আব্দুর রহমান ও তার সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক।

বিচারের আশায় দিন গুনছেন জকিগঞ্জের সেই ছয় সন্তানের জননী। এখন প্রশ্ন—প্রশাসন কি পারবে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে?

১২৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন