সিলেটে ডিসি’র বিরুদ্ধে মামলার অনুমতি চায় আদালত
শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬ ৭:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেটে ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তাজউদ্দিন নামে এক যুবক নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্তে অসহযোগিতা ও আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত তালুকদার এ নির্দেশ দেন। আদালত আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমতি গ্রহণ করে আদালতকে অবহিত করতে বলেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার ঢাকাদক্ষিণ আঞ্চলিক মহাসড়কে আন্দোলন চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তাজউদ্দিন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী রুলী বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই)।
তদন্ত চলাকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনার দিন ওই এলাকায় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নাম এবং কার নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল—এ সংক্রান্ত তথ্য জানতে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কাছেও ওই দিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের তালিকা চাওয়া হয়।
পরে বিজিবি তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সদস্যদের তালিকা সরবরাহ করলেও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলম ওই বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। একাধিকবার সময় দেওয়ার পরও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য না পাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয় বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালত ডিসিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি। পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ ধার্য তারিখেও তিনি আদালতে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এ বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়েও আদালতের আদেশ বারবার উপেক্ষা করা বেআইনি এবং এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। আদালত আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধির ১৭৫, ১৭৯ ও ২১৭ ধারা এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বর্তমান আইনে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের আগে সরকারের পূর্বানুমতি প্রয়োজন। সে কারণে আদালত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে প্রয়োজনীয় আইনি অনুমতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে তাজউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের এমন অসহযোগিতা এবং আদালতের কঠোর অবস্থান সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে আদালতের এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
১২৯ বার পড়া হয়েছে