মোংলায় দিনদুপুরে বাড়ি দখলের চেষ্টা: হামলায় তরুণ আহত, থানায় মামলা
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ১:৪৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মোংলা উপজেলার দিগরাজ বাজুয়া রোড এলাকায় দিনদুপুরে এক লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত কায়দায় বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ১৮ থেকে ২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল প্রায় ঘণ্টাব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে একটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে এবং ভিটেমাটিতে নিজেদের মালিকানার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। বাধা দিতে গেলে এক তরুণকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালীর সরাসরি মদদে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে রক্ষা করে। এ ঘটনায় থানায় ও আদালতে মামলা করা হয়েছে।
সরেজমিন ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টার দিকে ওমর আলী, হায়দার আলী, শওকত আলী, তারেক ও মেহদীর নেতৃত্বে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী দা, কুড়াল, হাতুড়ি, লোহার রড ও শাবল নিয়ে আওলাদ হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে আওলাদ হোসেনের ছেলে তানিম আশরাফিকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী আওলাদ হোসেন জানান, তিনি ২০১০ সালে অনুপ অধিকারী নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে বৈধভাবে জমি ক্রয় করে সেখানে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন এবং গত ১৭ বছর ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। অপরদিকে শওকত আলী গং শহিদুল হক নামের এক ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে একটি দলিল তৈরি করে জমির মালিকানা দাবি করে আসছে। এ নিয়ে বাগেরহাট আদালতে মামলা হলে আদালত তদন্তের দায়িত্ব মোংলা উপজেলা পরিষদকে দেয়। তদন্তে শওকত আলীদের দলিলটি ‘ভুয়া ও জাল’ প্রমাণিত হওয়ায় মামলাটি নিষ্পত্তি হয়। তবে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে চক্রটি পুনরায় সক্রিয় হয়ে জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, মোংলার বড়িরডাঙ্গা ও দ্বিগরাজ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ দখলচেষ্টা চালানো হয়েছে। হামলাকারীরা বাড়ি ভাঙচুরের পর জোরপূর্বক নিজেদের মালিকানার সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেয়। যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দিয়ে বলে, এলাকায় থাকতে হলে মুখ বন্ধ রাখতে হবে, অন্যথায় হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই মোংলা থানাকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা এলাকা ত্যাগ করে। পরে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের পরও সন্ত্রাসীরা এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে। জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে আওলাদ হোসেনের ছেলে ও পরিবারের সদস্যরা আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িছাড়া হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট, মারধর ও দখলচেষ্টা আইনের শাসনের চরম লঙ্ঘন। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সাধারণ মানুষের জমি দখলের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে ওমর আলী ও শওকত আলী পাটওয়ারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন বলেন, দ্বিগরাজ এলাকায় বাড়ি দখলের চেষ্টা, মারধর এবং জোরপূর্বক সাইনবোর্ড টাঙানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।
২০৮ বার পড়া হয়েছে