চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্ট্রবেরির বাম্পার ফলন, ৭৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা
বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬ ১:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চলতি মৌসুমে স্ট্রবেরির বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও উন্নত জাতের চারা ব্যবহারের ফলে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি জমিতে এ উচ্চমূল্যের ফলের আবাদ হয়েছে।
কৃষি বিভাগ আশা করছে, মৌসুম শেষে জেলাজুড়ে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার স্ট্রবেরি বেচাকেনা হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ১০০ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হলেও ২০২৪ সালে আবাদ কমে ৮২ হেক্টরে নেমে আসে। তবে চলতি বছরে আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৫ হেক্টরে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হচ্ছে শিবগঞ্জ উপজেলা-এ।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, প্রতি হেক্টরে গড়ে ১৩ টন করে স্ট্রবেরি উৎপাদন হচ্ছে। সেই হিসেবে জেলায় মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৯৫ টন। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি গড়ে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ দাম স্থিতিশীল থাকলে মৌসুম শেষে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৭৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
শিবগঞ্জের কালুপুর দক্ষিণপাড়ার কৃষক সেলিম জানান, মৌসুমের শুরুতে প্রতি কেজি স্ট্রবেরি প্রায় ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে। তবে ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা সন্তুষ্ট।
তবে মাঠে বাম্পার ফলন ও বাজারে তুলনামূলক উচ্চমূল্য থাকা সত্ত্বেও প্রকৃত চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্যে তারা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বর্তমানে কৃষকের কাছ থেকে মানভেদে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় স্ট্রবেরি কিনে খুচরা বাজারে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। রাজধানীসহ বড় শহরের সুপারশপগুলোতে একই স্ট্রবেরি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়।
স্ট্রবেরি চাষি আব্দুল মালেক বলেন, স্ট্রবেরি দীর্ঘ সময় সংরক্ষণ করা যায় না। হিমায়িত করার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
পরিবহন ব্যয়ও কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫ কেজির একটি কার্টুন ঢাকা বা দূরবর্তী জেলায় পাঠাতে অন্তত ৬০ টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিদিন একজন চাষি গড়ে ১০০ থেকে ১৩০ কেজি পর্যন্ত স্ট্রবেরি পরিবহন করেন, ফলে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, এবার স্ট্রবেরির আবাদ ও উৎপাদন দুটোই বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে প্রতি হেক্টরে প্রায় ১৩ টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে। প্রায় ৭৫ কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম জানান, চাষিরা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানালে দ্রুত পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সুবিধা নিশ্চিতের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
সব মিলিয়ে বাম্পার ফলনে আশাবাদী চাষিরা। তবে ন্যায্যমূল্য ও সহজ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এই সম্ভাবনাময় খাতে আরও বড় সাফল্য আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১৬৪ বার পড়া হয়েছে