পুঠিয়ায় ৮ ডাকাতকে গণপিটুনি, একজন নিহত
সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীর পুঠিয়ায় আটজন ডাকাতকে গ্রামবাসী ধরে গণপিটুনি দিয়েছেন। এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন মারা গেছেন।
বাকি সাতজনকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পুটিয়া উপজেলার পলাশি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় ডাকাতদের ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন গ্রামবাসী। নিহত ব্যক্তির নাম মো. শাহীন (৫৫)। তিনি রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার মাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। নিহত শাহীনের বাবার নাম আকরাম আলী। বাকি সাতজনের বাড়ি দেশের বিভিন্ন স্থানে এবং এরা সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের সদস্য বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, গভীর রাতে একটি ট্রাকে আটজন ডাকাত দেশীয় অস্ত্র ও ঘরের তালা কাটার যন্ত্র নিয়ে পলাশি বাজারে প্রবেশ করে। গ্রামবাসীর সন্দেহ হলে তারা আটকে গণপিটুনি দেয়। বিক্ষুব্ধ জনতার মারপিটে একজন নিহত হন। বাকি সাতজনকে আহত অবস্থায় আটক রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সোমবার সকালে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেলে পাঠায়। এছাড়া নিহতের লাশ ময়না তদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জ ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, আটজনের মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। বাকি সাতজনের মধ্যে ছয়জনকে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এবং একজনকে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
আহত ডাকাত সদস্যরা হলেন:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার চকপলাশী গ্রামের লালুর ছেলে মো. শামীম (৩৫),
ঢাকার আশুলিয়া থানার জিরানী বাজার এলাকার মৃত সোনা মিয়া ছেলে শফিকুল (৪৫),
রংপুরের মিঠাপুকুর থানার ইমাদপুর গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪০),
ঢাকার ধামরাই থানার নানজেগুড়ি এলাকার মাহির ছেলে খারজাহান (৩৫),
টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার বামালের চর গ্রামের সাত্তার শেখের ছেলে সেলিম শেখ (৩০),
টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর থানার কুটিবয়রা গ্রামের একানদানি সরকারের ছেলে মামুন (৪২),
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার সোনিয়াপাড়া গ্রামের মোস্তফার ছেলে রুপচান (৩০)।
রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান বলেন, “একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ডাকাত দলটি ডাকাতি করতে গিয়েছিল। পলাশি ডাকাতির প্রস্তুতির সময় গ্রামবাসী তাদের ধরে ফেলেন। এরপর তাদের গণপিটুনি দেওয়া হয়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আটজনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে একজন মারা যান এবং বাকি সাতজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরা সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের সদস্য।”
৪০৩ বার পড়া হয়েছে