ধুলো নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন
কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড সড়কে পানি ছিটাল পৌরসভা
বৃহস্পতিবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১০:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের পর অবশেষে কুষ্টিয়ার কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকার ধুলাবালিতে বিপর্যস্ত সড়কে পানি ছিটিয়েছে পৌরসভা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার-এর নির্দেশে বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার পানিবাহী গাড়ি দিয়ে সড়কে পানি ছিটানো হয়।
জানা গেছে, কুষ্টিয়া–রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমারখালী বাসস্ট্যান্ড মোড়সংলগ্ন অংশে দীর্ঘদিন ধরে উড়ন্ত ধুলোর কারণে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি চরম আকার ধারণ করে। নাকাল হয়ে পড়েন পথচারী, দোকানদার, যানবাহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা। বিষয়টি নিয়ে বুধবার জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।
পৌরসভার কর্মচারী জাহিদ হোসেন জানান, ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা সড়কে পানি দিচ্ছি, যাতে ধুলা কিছুটা হলেও কমে। সরেজমিনে দেখা যায়, পানি ছিটানোর পর এলাকায় ধুলার মাত্রা কমে আসে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, রোজার মধ্যে ধুলাবালির কারণে দোকানে বসে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। খাবার-দাবার ধুলায় ঢেকে যেত, শ্বাস নিতে কষ্ট হতো। পথচারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ধুলার কারণে কাশি, শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা ও অ্যালার্জির সমস্যা বেড়েছে। নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সড়ক ও জনপদ বিভাগ) বাসস্ট্যান্ড এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ইট বিছিয়ে যে তথাকথিত সংস্কার করেছে, বাস্তবে সেটিই এখন ধুলোর কারখানায় পরিণত হয়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের সময় পুরো এলাকা ধুলার চাদরে ঢেকে যায়।
একজন ফল বিক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিনই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চলাচল করেন। তবুও সাধারণ মানুষের কষ্ট যেন কারও চোখে পড়ে না। স্থানীয়দের মতে, বাসস্ট্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ন্যূনতম পরিবেশ সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকা চরম অবহেলারই নাম।
এ অবস্থায় সাময়িকভাবে পানি ছিটানোকে ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি—ইট তুলে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ, নিয়মিত ধুলা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায়, এই দুর্ভোগ আবারও ফিরে আসবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
১১৪ বার পড়া হয়েছে