মহিপুরে হাসপাতালে ভাংচুর: ছাত্রদল নেতা সিয়ামকে বহিষ্কার
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:২৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর মহিপুর থানা সদরে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে দন্দের জেরে কেয়ার মডেল হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা সিয়াম মাহমুদকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হারুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়াম মাহমুদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মহিপুর থানা বিএনপি ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দ দুইপক্ষে অবস্থান নেন। বহিষ্কারের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়। মাত্র দুই হাজার টাকার লেনদেনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও আলোচনা দেখা দিয়েছে, যা বিএনপির ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ণ করেছে।
পূর্বে, ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিয়ামের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দল হাসপাতালে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। প্রথমে মহিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল প্রচার সম্পাদক কামরুল ইসলাম শাওনকে একদফা মারধর করা হয়। শাওন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে, সিয়ামের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফা হামলায় হাসপাতালটিতে আরও ভাঙচুর চালানো হয়।
হাসপাতালের কাউন্টার ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুরের ফলে রোগী ও স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়।
হামলার শিকার কামরুল ইসলাম শাওন অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক লেনদেনে মাত্র দুই হাজার টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে সিয়াম মাহমুদ সহ আকরাম, মো. বাপ্পী, ইসমাইল, রিফাত পারভেজ, আব্দুল্লাহ, সৌরভ, ইমরান, আরিফ, জয়ানালসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। পরে তিনি হাসপাতালে গেলে দ্বিতীয় দফার হামলার শিকার হন এবং হাসপাতালের কাউন্টারসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
কেয়ার মডেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, “হঠাৎ ১০-১২ জন যুবক হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এতে রোগী ও স্টাফরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। হাসপাতালের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং লক্ষাধিক টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহিপুর থানা সদরে ছাত্রদলের কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপতৎপরতার কারণে দলের দুর্নাম ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসনের নিরবতায় তারা বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতা সিয়াম মাহমুদকে বহিষ্কার করায় জেলা ছাত্রদলকে স্থানীয়রা প্রশংসা জানিয়েছে।
২১২ বার পড়া হয়েছে