ফরিদপুরে চিনিকলের বর্জ্যে চন্দনা-বারাশিয়া নদী দূষিত, মাছ মরায় উদ্বেগ
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:১৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরে চিনিকলের অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ দূষণে নদীর পানিতে বিষক্রিয়া দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ মারা যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে সরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ফরিদপুর সুগার মিল-এ ১৯৭৬ সালে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে আখ মাড়াই মৌসুমে মধুখালী থেকে বামুন্দী-বালিয়াকান্দী সড়কের ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় মিলের কালো বর্জ্যপানি খাল দিয়ে সরাসরি চন্দনা-বারাশিয়া নদীতে গিয়ে পড়ছে। বিশেষ করে মাড়াই মৌসুমে দূষণের মাত্রা বেড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, মিল এলাকা থেকে নির্গত অপরিশোধিত বর্জ্য একটি খালের মাধ্যমে নদীতে মিশছে। মিলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র রাসায়নিক দুর্গন্ধে পথচারীদের নাক-মুখ ঢেকে চলাচল করতে হচ্ছে। নদীর উজান থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে অবস্থিত মিলটি ওই খাল ব্যবহার করেই বর্জ্য নিষ্কাশন করে বলে জানা গেছে।
পৌরসভার চারটি গ্রামের প্রায় ছয় হাজার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এ দূষণের ভোগান্তিতে রয়েছেন। খালটি বিদ্যালয় ও বাজারের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মধুখালী আইডিয়াল একাডেমি ও ফরিদপুর চিনিকল উচ্চ বিদ্যালয়ের দেড় হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং মিল গেট বাজারের ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীর এক পাশের পানি স্বচ্ছ থাকলেও অন্য পাশ চিনিকলের বর্জ্যে কালো হয়ে গেছে। এক মাস আগেও পানি পরিষ্কার থাকলেও বর্তমানে তা বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে। নদীপাড়ের অনেকেই এখন কালচে পানির কারণে কাপড় ধোয়ার কাজও করতে পারছেন না।
ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাসরিন জাহান নদী পরিদর্শনের কথা জানিয়ে বলেন, বিষাক্ত পানির কারণে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান জানান, মিল কর্তৃপক্ষ তাদের ইটিপি (বর্জ্য পরিশোধনাগার) থাকার দাবি করেছে এবং নিজস্ব পুকুরে বর্জ্যপানি ফেলার কথা বলেছে। তারপরও বিষয়টি দ্রুত সমাধানে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে কথা বলা হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক সাঈদ আনোয়ার বলেন, বিষয়টি জানার পর দ্রুত পরিদর্শক পাঠানো হবে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন জানান, চিনিকলের বর্জ্যের কারণে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মিল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক ফারহাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। মিলের নিজস্ব পুকুরেই বর্জ্য সংরক্ষণ করা হয়। চুন ও সালফার ডাই-অক্সাইড পানির সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করতে পারে উল্লেখ করে তিনি জানান, তরল বর্জ্যের কিছু অংশ মাটির নিচ দিয়ে নদীতে যেতে পারে। তবে যাতে কোনোভাবেই বর্জ্য নদীতে না যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
১৫৪ বার পড়া হয়েছে