গোপালগঞ্জে বিলে বিষ প্রয়োগে ৫০ বিঘা পেঁয়াজ ক্ষতিগ্রস্ত
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৬:০২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার শৌলকোপা বিলে রাতের আধারে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় প্রায় ৫০ বিঘা জমির পেঁয়াজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে অন্তত ৩০ জন কৃষক মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. ইলিয়াছ মোল্যা।
সরেজমিনে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শৌলকোপা বিলের কয়েক’শ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা। ফলনও ছিল ভালো। তবে কয়েকদিন আগে গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা জমিতে গোড়াপঁচা রোগ সৃষ্টিকারী বিষ প্রয়োগ করে। এরপর থেকেই জমির পেঁয়াজে গোড়াপঁচা দেখা দেয় এবং প্রতিদিনই ফসল নষ্ট হতে থাকে।
মো. ইলিয়াছ মোল্যা ১০ কাঠা জমি বর্গা নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছিলেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। জমি থেকে পেঁয়াজ উঠলে তিনি অন্তত ১ লাখ ২০ হাজার টাকার পেঁয়াজ বিক্রির আশা করেছিলেন, যেখানে সম্ভাব্য লাভ ছিল প্রায় ৪০ হাজার টাকা। পাঁচ সদস্যের সংসার চালাতে তিনি এই পেঁয়াজ চাষের উপরই নির্ভরশীল ছিলেন। কিন্তু বিষ প্রয়োগে তার সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। এখন তিনি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শুধু ইলিয়াছ মোল্যা নন, আরও অনেক কৃষক একই পরিস্থিতির শিকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বশার মোল্যা জানান, তারা কেউ দুই, কেউ তিন, আবার কেউ পাঁচ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। চাষাবাদে প্রত্যেকেরই ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। কয়েকদিন পরই পেঁয়াজ উত্তোলন করে বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু বিষ প্রয়োগে সবকিছু অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আরেক কৃষক মো. জাহিদ ফকির বলেন, অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় লাভের আশা ছিল। কিন্তু এখন ফসল নষ্ট হওয়ায় ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবার চালানো নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। তিনি সরকারি সহায়তা না পেলে সর্বস্বান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরর কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শন করেছেন। মুকসুদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে জমিতে প্যারাকুয়েট নামক আগাছানাশক প্রয়োগ করা হয়েছে। এর প্রভাবে পেঁয়াজ গাছ ধীরে ধীরে শুকিয়ে মারা যায়। ক্ষতি কমাতে কারবেন্ডাজিম জাতীয় ছত্রাকনাশক দুই দিন পরপর স্প্রে, কুইক পটাশ প্রয়োগ এবং গাছ কিছুটা সুস্থ হলে পিজিআর স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজাদ ফকিরের ছেলে জাহিদ ফকির পশারগাতী ইউনিয়নের হাকিমপুর গ্রামের হান্নু শেখকে বিবাদী করে মুকসুদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে