মাদারীপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা: এখনও মামলা হয়নি
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাদারীপুরে বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদারের বাড়িতে হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং শতাধিক হাতবোমা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে। কিন্তু আজ রবিবার পর্যন্ত মাদারীপুর সদর থানা পুলিশ কোন পক্ষের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাননি।
পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, প্রথমে বিএনপি নেতার বাড়িতে হামলা শুরু হয় এবং পরে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। কিন্তু রহস্যজনকভাবে বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদার এই হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে শহরের থানতলী ব্রিজে স্থানীয় হাকিম বেপারীর নাতি রানাকে (১৫) একা পেয়ে লাভলু হাওলাদারের গ্রুপের কিশোররা মারধর করে চলে যায়। এরপর হাকিম বেপারীর কিশোর গ্রুপ লাভলু হাওলাদারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। আক্তার হাওলাদারের বাহিনী হাকিম বেপারীর কিশোর গ্রুপের সঙ্গে যোগ দেয় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষের সময় উভয়পক্ষ হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেদের আধিপত্য প্রদর্শন করার চেষ্টা করে। পুলিশ প্রথমে একা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার কারণে সেনা বাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের সহায়তায় নিয়ন্ত্রণ আনা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন মাদারীপুর ও লক্ষ্মীগঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদার ও আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক কাউন্সিলর আক্তার হাওলাদারের গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের বিরোধ রয়েছে। এ কারণে অতীতে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই দ্বন্দ্বের জেরে শ্রমিক দল নেতা শাকিলও হত্যার শিকার হয়েছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের একাধিক মামলা ও পাল্টা মামলা রয়েছে।
বিএনপি নেতা লাভলু হাওলাদার একটি ভয়েস বার্তায় সাংবাদিকদের জানান, তার বাড়িতে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। শুক্রবার রাতের সংঘর্ষ তার বাড়ি থেকে অনেক দূরে হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমি এই ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানি না এবং এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।'
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, আধিপত্য বিস্তারের বিরোধের কারণে আক্তার হাওলাদার ও লাভলু হাওলাদার গ্রুপের মধ্যে শুক্রবার রাতে সংঘর্ষ হয়। উভয় পক্ষই শতাধিক হাতবোমা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে সেনা বাহিনী, বিজিবি ও র্যাব যুক্ত হয়। দেড় ঘণ্টার চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের সূত্রপাত লাভলু হাওলাদারের বাড়িতে হামলার কারণে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৪টি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো অস্ত্র উদ্ধার বা কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। কোনো পক্ষের অভিযোগ না আসায় পুলিশ অস্ত্র ও বোমার উৎস খুঁজে বের করে এ ধরনের সংঘর্ষ রোধে কাজ করছে।
বর্তমানে এলাকায় থমথমে ভাব বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে