ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: বিএনপি'র নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে জোর আলোচনা
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:১৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় প্রধান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন-এমন প্রত্যাশার মধ্যেই দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন মূল আলোচনার বিষয় নতুন মন্ত্রিসভা।
দলীয় দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণ ও মেধাবী নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটানো হবে। ফলে বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় নাও দেখা যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের সব অঞ্চল ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
দলের জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়–এর নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে ঘুরছে।
স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা করার পরামর্শ রয়েছে বলে জানা গেছে। বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া এবং এবারের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় নতুন সরকারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে-এমন আলোচনা দলীয় ভেতর-বাইরে রয়েছে।
এ ছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুর নামও আলোচনায় রয়েছে। জাহিদ হোসেন বিএনপিপন্থী চিকিৎসক সংগঠনের নেতা এবং বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের একজন ছিলেন। কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত আবদুল আউয়াল মিন্টুও মন্ত্রিসভার নতুন মুখ হতে পারেন।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পদের দুজন নেতাকে মন্ত্রিসভায় নেওয়ার চিন্তা রয়েছে, যদিও তাঁরা এবারের নির্বাচনে অংশ নেননি। পাশাপাশি ১০ থেকে ১৫ জন তরুণ নেতাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পঞ্চগড়, সিলেট, নোয়াখালী, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, ঝিনাইদহ, নেত্রকোনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের একাধিক নেতার নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে।
নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলের স্থায়ী কমিটির একজন নারী সদস্য ছাড়াও মানিকগঞ্জ, সিলেট ও ফরিদপুর অঞ্চলের নারী সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একাধিকজন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
সংখ্যালঘু ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের মধ্য থেকেও একাধিকজনকে মন্ত্রিসভায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে একজন প্রবীণ নেতা এবং পার্বত্য এলাকার একজন নেতার নাম আলোচনায় আছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিগত যুগপৎ আন্দোলনের সময় শরিকদের নিয়ে ‘জাতীয় সরকার’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি। সে ধারাবাহিকতায় শরিক দল থেকেও কয়েকজনকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। এর মধ্যে জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন) এবং আন্দালিভ রহমান পার্থ (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি)-এর নাম উল্লেখযোগ্য।
এবারের নির্বাচনে মিত্র দলের সাতজন নেতা নিজ নিজ দল ছেড়ে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সেলিম ও ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। তাঁদের নামও সম্ভাব্য মন্ত্রী তালিকায় রয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিবের কথা ভাবা হচ্ছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের নীতি-গবেষণার সঙ্গে যুক্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অতীতে দায়িত্ব পালন করেছেন- এমন ব্যক্তির নামও আলোচনায় রয়েছে।
২০০১ সালের মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত ছিলেন-এমন কয়েকজনকেও নতুন মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
এবারের মন্ত্রিসভা খুব বড় আকারের না করার চিন্তা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিধি বাড়ানো হতে পারে। একাধিক উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী বা অন্য কোনো পদে বিভিন্ন খাতের বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকে কাজ করেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন-এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও আছে। বিদেশে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারে আছেন-এমন একজনের নামও আলোচনায় রয়েছে।
নতুন সংসদ ও নতুন সরকারকে ঘিরে দেশজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে জল্পনা চললেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি। এ বিষয়ে কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নতুন মন্ত্রিসভা কেমন হবে তা জানতে দেশবাসীকে আর অল্প সময় অপেক্ষা করতে হবে।
১২০ বার পড়া হয়েছে