কুয়াকাটা সৈকতে অসংখ্য মৃত জেলিফিশ, পরিবেশ দূষণের আশঙ্কা
বৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে সমুদ্রের লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের সঙ্গে ভেসে আসছে বিপুল সংখ্যক মৃত ও জীবিত জেলিফিশ।
দীর্ঘ ২২ কিলোমিটার বিস্তৃত সৈকতের একাধিক পয়েন্টে এই প্রাণীরা বালুতে আটকে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষক ও পর্যটকদের মতে, জেলিফিশগুলোর মধ্যে কিছু আকারে ছোট, আবার কিছু বড়। এগুলো দেখতে অনেকটা অক্টোপাসের মতো হলেও স্থানীয় জেলেদের কাছে এগুলো ‘লোনা’ নামে পরিচিত। দুর্গন্ধের কারণে পর্যটকেরা সরাসরি এগুলো দেখার আগ্রহ দেখাতে পারছেন না।
পর্যটক রাব্বি জানান, 'জেলিফিশের নাম শুনেছি, তবে এত কাছ থেকে প্রথমবার দেখলাম। এগুলো দ্রুত সরানো না হলে সৈকতের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হবে।'
স্থানীয় জেলে মো. জলিল জানিয়েছেন, 'পাঁচ-ছয় দিন আগে আমাদের জালে বিপুল পরিমাণ জেলিফিশ ধরা পড়েছিল। পরে সেগুলো আবার সমুদ্রে ফেলে দিয়েছি।'
ফিশারিজ বিভাগের গবেষকেরা জানান, জেলিফিশ সাধারণত গভীর সমুদ্রের প্রাণী। সমুদ্রের পানিতে পরিবেশগত পরিবর্তন বা বিপর্যয় ঘটলে এসব প্রাণী উপকূলের কাছাকাছি চলে আসে। এদের শরীরে থাকা দংশন কোষ স্পর্শ করলে ত্বকে চুলকানি, ঘা এবং কখনো মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'বালুর নিচে জেলিফিশ চাপা দিলে দুর্গন্ধ ছড়ানোর ঝুঁকি কমবে।'
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা যোগ করেন, 'জেলেদের জালে আটকা পড়া জেলিফিশ পরে সমুদ্রে ফেলা হলে এগুলো কুয়াকাটার বেলাভূমিতে আটকে পড়ে।'
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, 'পর্যটক নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য মৃত জেলিফিশ দ্রুত অপসারণ করে বালুতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, 'মৃত জেলিফিশ সৈকতে পড়ে থাকলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এদের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করতে গবেষণা জরুরি।'
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের জানুয়ারিতেও কুয়াকাটা সৈকতে বিপুল সংখ্যক জেলিফিশ ভেসে আসার ঘটনা ঘটে।
১৫২ বার পড়া হয়েছে