সর্বশেষ

রাজনীতি

দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতাদের বৈঠক

স্পেশাল করসপন্ডেন্ট
স্পেশাল করসপন্ডেন্ট

শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:১৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
গণ–অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একদল নেতা। দলটির পাঁচ সদস্য ২১ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে এই সাক্ষাতে অংশ নেন।

সাক্ষাৎকারে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি জালাল উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আহাদ চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল খান। এক সপ্তাহের ভারত সফর শেষে তাঁরা ২৬ জানুয়ারি লন্ডনে ফিরে যান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিনিধিদলের একাধিক সদস্য প্রথম আলোকে এই সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে অন্য কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে তথ্যটি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিনিধিদলের এক নেতা জানান, কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয়। মোবাইল ফোনসহ কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী সঙ্গে নেওয়ার অনুমতি ছিল না। শেখ হাসিনার অনুমোদনের পর একাধিক ধাপের নিরাপত্তা যাচাই শেষে তাঁদের নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়িতে করে তাঁর বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওই নেতা আরও বলেন, প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁদের আলোচনা হয়। এ সময় তাঁকে আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় মনোবলসম্পন্ন মনে হয়েছে। শারীরিকভাবে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি, তবে কিছুটা ওজন কমেছে বলে মনে হয়েছে।

প্রতিনিধিদলের ভাষ্যমতে, ভারত সরকার দিল্লিতে একটি সুসজ্জিত ও বহুস্তর নিরাপত্তাবেষ্টিত বাসভবনে শেখ হাসিনাকে অবস্থান করতে দিয়েছে। সেখানে তাঁর দেখভাল ও সহায়তার জন্য একাধিক ব্যক্তি নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা নিয়মিতভাবে লন্ডন থেকে দিল্লিতে গিয়ে কিছুদিন তাঁর সঙ্গে অবস্থান করেন বলেও জানান তাঁরা।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশত্যাগের পর থেকে শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে বিবৃতি ও অডিও বার্তার মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করে আসছেন। গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো তাঁর রেকর্ড করা অডিও বক্তব্য শোনানো হয়। তবে এখনো তাঁকে প্রকাশ্যে কোথাও দেখা যায়নি কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।

এরই মধ্যে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর মা রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন এবং দেশে ফিরে অবসর নিতে চান।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে টানা দেড় দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও বিরোধী মত দমনের অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহিংসতায় প্রায় এক হাজার চারশ মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এসব ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি হত্যা, গুম ও দুর্নীতিসহ একাধিক মামলায় তাঁর বিচার চলমান রয়েছে। তাঁকে বিচারের মুখোমুখি করতে অন্তর্বর্তী সরকার একাধিকবার ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানালেও এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি ভারত সরকার।

২১১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
রাজনীতি নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন