সর্বশেষ

জাতীয়গণমাধ্যম সম্মিলন ২০২৬: স্বাধীন সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ঐক্যের আহ্বান
ঋণখেলাপির কারণে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, হাসনাতের বৈধ
গণতান্ত্রিক সরকার ছাড়া বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: তারেক রহমান
সারাদেশনোয়াখালীতে ছয় মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা, বাজারে মিষ্টি বিতরণ
আন্তর্জাতিকইউরোপের ৮ দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের ঘোষণা
খেলাঅনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপে টসে হাত মেলাননি বাংলাদেশ ও ভারত অধিনায়ক
ফাহাদের ৫ উইকেটে কুপোকাত ভারত, যুব বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দাপুটে শুরু
অপরাধ

সীমান্তে অবৈধ পারাপার ও অস্ত্র চোরাচালান: ২৭ জেলায় ৭৮৭ ‘লাইনম্যান’ 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৫০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অবৈধ পারাপার, অস্ত্র ও জাল টাকা চোরাচালান নতুন করে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশঙ্কা, অপরাধ সংঘটনের পর সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে সীমান্তবর্তী ২৭টি জেলায় নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। একই সঙ্গে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)কে আরও সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

গত ২৯ ডিসেম্বর রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, কোনো অপরাধী বা সন্ত্রাসী যেন সীমান্ত দিয়ে দেশ ছাড়তে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবিকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। চোরাচালানে জড়িত বা সহযোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

পুলিশের একটি গোয়েন্দা তালিকায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপারে জড়িত ৭৮৭ জন ‘লাইনম্যান’-এর নাম উঠে এসেছে। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এসব লাইনম্যান মূলত সীমান্ত পারাপারের রুট নির্ধারণ, নৌকা বা যানবাহনের ব্যবস্থা এবং সময় নির্বাচনসহ পুরো প্রক্রিয়ায় সমন্বয়ের কাজ করে থাকেন।

তালিকা অনুযায়ী, বান্দরবানে সবচেয়ে বেশি ১১৬ জন, কক্সবাজারে ৯৯ জন, সিলেটে ৫৮ জন, সাতক্ষীরায় ৫২ জন এবং পঞ্চগড়ে ৪৪ জন লাইনম্যান সক্রিয় রয়েছে। এসব জেলায় বিশেষ অভিযান ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বড় ধরনের চোরাচালান বা অবৈধ পারাপার লাইনম্যান ছাড়া প্রায় অসম্ভব। দুর্গম পাহাড়ি পথ, নদী ও চর সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা থাকায় তারা অপরাধচক্রের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ৭ দশমিক ৬৫ ক্যালিবারের বিদেশি অস্ত্র ও গুলির ব্যবহার বেড়েছে, যা দেশে অপ্রচলিত। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মনে করছে, এসব অস্ত্র অবৈধ পথে সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে।

একই সঙ্গে নির্বাচনী সময়ে অর্থের লেনদেন বাড়ায় জাল টাকা ছড়ানোর আশঙ্কাও বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নকশার নোট বাজারে আসায় সাধারণ মানুষের পক্ষে জাল নোট শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে—এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারে অপরাধচক্র।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়, নদী ও দীর্ঘ সীমান্তের কারণে অনেক এলাকায় নজরদারি কঠিন হলেও এটি কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, “অপরাধ করে সীমান্ত পেরিয়ে পার পাওয়ার ধারণা তৈরি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি অপরিহার্য।”

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, যৌথ অভিযান, রাতের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এতে অবৈধ পারাপার কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। নির্বাচনের আগে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
অপরাধ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন