উল্লাপাড়ায় সৎকার ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দাহ সম্পন্ন
সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের এক বৃদ্ধা নারীর মরদেহ সৎকারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাধার অভিযোগে সৎকার বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষুব্ধ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মরদেহ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং মরদেহ দাহের ব্যবস্থা করা হয়।
জানা গেছে, উল্লাপাড়া পৌর এলাকার ঝিকিরা মহল্লার বাসিন্দা মৃত গনেশ বনিকের স্ত্রী মিনা বনিক (বৃদ্ধা) গত রবিবার রাতে মারা যান। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সোমবার সকালে তাঁর মরদেহ উল্লাপাড়া মহাশ্মশানে সৎকারের জন্য নেওয়া হলে বাধার মুখে পড়েন স্বজনরা। অভিযোগ ওঠে, ঘোষগাঁতী মহল্লার বাসিন্দা ও স্থানীয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবলু ভৌমিক শ্মশানের চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সৎকারে বাধা দেন।
এ ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মৃতের স্বজন ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মরদেহ নিয়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
মৃতের স্বজন রাজেশ চন্দ্র সাহাসহ অন্যান্যরা অভিযোগ করে বলেন, শ্মশানের চাবির জন্য বাবলু ভৌমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি শ্মশানের নাম নিয়ে আপত্তি তোলেন। তাঁদের দাবি, শ্মশানের নাম উল্লাপাড়া মহাশ্মশান, যা উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, বাবলু ভৌমিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি শ্মশানের চাবির দায়িত্বে নেই এবং মাইকিংয়ের সময় ঘোষগাঁতী মহাশ্মশানের নাম উল্লেখ করা হয়নি বলেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরফি জানান, শ্মশানের চাবি তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না যাওয়ায় সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে সৎকার সম্পন্ন করা হয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত উল্লাপাড়া মহাশ্মশানের নাম সম্প্রতি পরিবর্তন করে ‘ঘোষগাঁতী হিন্দু মহাশ্মশান’ করা হয়েছে। নামকরণ ও কর্তৃত্ব নিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এই বিরোধের জেরেই সাম্প্রতিক এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৫ বার পড়া হয়েছে