পাহাড়ি ঢল
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবন: ২৫০ হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে
ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার নিম্নাঞ্চল। এতে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ হেক্টর সদ্য রোপিত আমন ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। তবে বৃষ্টিপাত না থাকায় দুপুরের পর থেকে পানি কমতে শুরু করায় বড় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কমছে।
বান্দরবানে ৬ শতাধিক বন্যাকবলিতকে উদ্ধার করেছে বিজিবি
টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১১ জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উদ্ধার, ত্রাণ, চিকিৎসাসেবা ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কাজ করছে। বাহিনী জানিয়েছে, বর্তমানে ৯০টি পয়েন্টে সার্বক্ষণিক নজরদারির পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বান্দরবানে এখন পর্যন্ত ১১৬ জন পর্যটকসহ ৬ শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি: বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম, সুনামগঞ্জে পানি কমলেও কাটেনি শঙ্কা
টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। কোথাও কোথাও পানি নামতে শুরু করলেও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এখনও কাটেনি। একই সময়ে বেনাপোল স্থলবন্দরে জলাবদ্ধতায় কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জে নদ-নদীর পানি সামান্য কমলেও বন্যার আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
রাঙ্গামাটিতে কমেনি বন্যার পানি, পানিবন্দি ২০ সহস্রাধিক মানুষ
রাঙ্গামাটিতে টানা ভারী বর্ষণ কমলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি বন্যা পরিস্থিতি। জেলার বাঘাইছড়িসহ একাধিক উপজেলায় এখনো ২০ হাজারের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় প্লাবিত এলাকায় ব্যাহত হচ্ছে জরুরি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম।
বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপরে তিস্তার পানি, লালমনিরহাটে বন্যার শঙ্কা
ভারতের গজলডোবা থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বর্ষণের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, ঢল ও জোয়ারে জনজীবন বিপর্যস্ত
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের উপজেলাগুলোতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায়ও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।