আলফাডাঙ্গায় এক মণ্ডপে ২৭৭ প্রতিমা, আসবেন লাখো দর্শনার্থী
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় এক আঙিনায় সারিবদ্ধভাবে স্থাপন করা হয়েছে ২৭৭টি প্রতিমা। কোথাও মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলার উপাখ্যান, কোথাও নবদুর্গার জীবনকাহিনি। পৌরাণিক কাহিনির নানা দৃশ্য ও শৈল্পিক উপস্থাপনায় সাজানো এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দেখতে প্রতিবছর ভিড় করেন লাখো মানুষ। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকেও আসেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদি গ্রামের কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে শারদীয় দুর্গোৎসবের এই আয়োজন এখন ধর্মীয় আচার পালনের গণ্ডি পেরিয়ে পরিণত হয়েছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মিলনমেলায়। প্রতিমার বৈচিত্র্য, পৌরাণিক কাহিনির শৈল্পিক উপস্থাপন ও বর্ণাঢ্য সাজসজ্জা প্রতিবছর দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
এবারও মন্দির প্রাঙ্গণে চলছে উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা নির্মাণ ও রঙের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে প্যান্ডেল নির্মাণ, আলপনা আঁকা এবং আধুনিক আলোকসজ্জার কাজ। আয়োজকদের দাবি, এবার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ও বর্ণাঢ্য দুর্গাপূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে।
মন্দির কমিটির তথ্য অনুযায়ী, কুসুমদি গ্রামের কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে ২০০৫ সাল থেকে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়ে আসছে। গত বছর মণ্ডপে ২৫১টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছিল। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৭টিতে।
প্রতিমাগুলোতে তুলে ধরা হয়েছে মনসামঙ্গল কাব্যের বেহুলার উপাখ্যান ও নবদুর্গার জীবনকাহিনি। প্রতিটি প্রতিমার মধ্য দিয়ে পৌরাণিক কাহিনি, বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন শিল্পীরা।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার মৃৎশিল্পী নিরঞ্জন দাস ও সুব্রত দাস ছয়জন সহকারীকে নিয়ে টানা দুই মাস ধরে প্রতিমাগুলো নির্মাণ করেছেন। প্রতিমা তৈরি ও রঙের কাজ শেষ করে এখন মণ্ডপের সামগ্রিক সাজসজ্জায় ব্যস্ত রয়েছেন আয়োজকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম কুমার বিশ্বাস বলেন, ধর্মীয় গণ্ডি পেরিয়ে আলফাডাঙ্গার এই হরি মন্দির প্রাঙ্গণ এখন সব ধর্মের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। পৌরাণিক কাহিনির শৈল্পিক উপস্থাপনা আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য বার্তা দিচ্ছে।
উত্তম কুমার বিশ্বাস আরও বলেন, কয়েক বছর ধরে এখানে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফরিদপুর জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। ভারত থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন।
শ্রী শ্রী হরি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা প্রদর্শনী দেখতে দেশের দূর-দূরান্তের পাশাপাশি ভারত থেকেও বহু ভক্ত ও দর্শনার্থী আসেন। গত বছর এখানে লাখের বেশি মানুষের সমাগম হয়েছিল। এবার প্রতিমার সংখ্যা বাড়ানোয় দর্শনার্থীর সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় বাড়বে বলে তাঁরা আশাবাদী। এবার কয়েক লাখ মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন তাঁরা।
মন্দিরের আহ্বায়ক ডা. সুমন রায় বলেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য শুধু ধর্মীয় আচার পালন নয়, প্রতিমার মাধ্যমে আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা। দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিমাগুলো দেখতে পারেন, সে জন্য পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক দল।
বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর সমাগমের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারির পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে।
সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, বৃহৎ এই আয়োজন ও বিপুল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তাবলয় তৈরি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আনসার সদস্য এবং আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল মাঠে সক্রিয় থাকবে।
১০৯ বার পড়া হয়েছে