ঢাকা ও আশপাশে মৃদু ভূমিকম্প
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ৭:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সোমবার ভোরে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুরে।
সোমবার ভোর ৫টা ৩২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের সহকারী আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর শিবপুরে। এটি ঢাকা ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।
সাম্প্রতিক সময়ে নরসিংদী ও ঢাকার আশপাশের এলাকায় একাধিক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে গত ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পটি ছিল সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তি হওয়া ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭। কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাণঘাতী ওই ভূমিকম্পে তিন জেলায় ১০ জনের মৃত্যু হয় এবং আহত হন ছয় শতাধিক মানুষ। ঢাকার বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কিছু ভবন হেলে পড়ার ঘটনাও ঘটে।
এর পরদিন সকালে নরসিংদীর পলাশে উৎপত্তি হওয়া ৩ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। একই দিন সন্ধ্যায় অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও দুটি ভূমিকম্প হয়। এর মধ্যে একটির উৎপত্তিস্থলও ছিল নরসিংদীতে।
২৭ নভেম্বর নরসিংদীর ঘোড়াশালে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪। পরে ৪ ডিসেম্বর শিবপুরে উৎপত্তি হওয়া আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ১।
এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি ছোট মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে। ধারাবাহিক এসব ভূকম্পনের পর ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার সম্প্রতি বলেন, সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলে ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে। এ কারণে গত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও সিলেট অঞ্চলে ছোট মাত্রার ভূমিকম্প দেখা যাচ্ছে।
তাঁর মতে, দেশের এই অঞ্চলে ভূমিকম্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস রয়েছে। এর একটি ডাউকি ফল্ট, যা শেরপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও জৈন্তাপুরসংলগ্ন এলাকায় বিস্তৃত। অন্যটি সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত ভূ-অঞ্চল, যার মধ্যে সিলেট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের অংশ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে ঢাকার ঝুঁকি কমানো কঠিন হলেও সচেতনতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।
১৭১ বার পড়া হয়েছে