বরগুনায় বেঞ্চ নির্মাণ ঘিরে ২ সরকারি দপ্তরের দ্বন্দ্ব, নষ্ট লক্ষাধিক টাকা
রবিবার, ৩ মে, ২০২৬ ৬:৫৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরগুনার তালতলী উপজেলার জনপ্রিয় নিদ্রা পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের বসার জন্য বেঞ্চ নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই সরকারি দপ্তরের মধ্যে তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
সমন্বয়হীনতার কারণে শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলা হয়েছে নির্মাণাধীন বেঞ্চ, ফলে নষ্ট হয়েছে রাষ্ট্রের লক্ষাধিক টাকা। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর প্রকল্পের আওতায় তালতলী উপজেলা প্রশাসন পর্যটকদের জন্য পাঁচটি কংক্রিটের বেঞ্চ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) সভাপতি করা হয় সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইউনুস ফরাজীকে এবং বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।
কিন্তু গত ২৮ এপ্রিল নিদ্রা পর্যটন কেন্দ্রে পরিদর্শনে আসেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা। পরিদর্শনকালে বন বিভাগের জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ তুলে তিনি বেঞ্চ অপসারণের নির্দেশ দেন। পরে তালতলী উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা নির্মাণাধীন বেঞ্চগুলো ভেঙে ফেলেন।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের দাবি, বেঞ্চগুলো সরকারের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত খাস জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে কোনো গাছের ক্ষতি করা হয়নি। তাই বন বিভাগের এই পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মানববন্ধন করেছেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউনুস ফরাজীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মানববন্ধনে ইউনুস ফরাজী অভিযোগ করেন, বন বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা বেঞ্চগুলো ভেঙে ফেলেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ পরিকল্পনা ও সমন্বয় থাকা জরুরি, যাতে জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারে এবং রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় না হয়।
বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের সকিনা বিট কর্মকর্তা রাহিমুল ইসলাম জুমেল বলেন, “বিভাগীয় বন কর্মকর্তা পরিদর্শনে এসে বনের ভেতরে বেঞ্চ দেখতে পেয়ে তা অপসারণের নির্দেশ দেন। আমরা তার নির্দেশ অনুসারে বেঞ্চগুলো ভেঙে ফেলি। তখন আমরা জানতাম না যে এগুলো উপজেলা প্রশাসনের নির্মাণ।”
অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আল মাসুম জানান, বেঞ্চ নির্মাণের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বন বিভাগ সেগুলো ভেঙে দেয়।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “সমন্বয়হীনতার কারণেই এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে তা খাস জমি, তাই বন বিভাগের ভাঙার এখতিয়ার নেই। বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
১৯৮ বার পড়া হয়েছে