রূপপুর প্রকল্পে ঋণ পরিশোধ ২৮ বছরে, ইউনিট খরচ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা
বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ ৪:৩১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার কাছ থেকে বিপুল আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই ঋণ হিসেবে দিয়েছে রাশিয়া। চুক্তি অনুযায়ী এই ঋণ আগামী ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
শুরুতে প্রকল্প থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় আনুমানিক ৬ টাকা ধরা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সূত্রে তা বেড়ে প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে আন্তর্জাতিক মান অনুসারে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এখানে ব্যবহৃত তৃতীয় প্রজন্মের রিঅ্যাক্টরে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা প্রযুক্তি রয়েছে, যা ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। এছাড়া ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি ব্যবহারের পর আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে রাশিয়ায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা থাকবে।
এই কেন্দ্রটির পরিকল্পিত আয়ুষ্কাল প্রায় ৬০ বছর হলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ হলে এটি আরও প্রায় ৩০ বছর অতিরিক্ত সময় চালানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তাদের মতে, এই প্রকল্প দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণ তুলনামূলকভাবে খুবই কম, ফলে এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে কয়লা ও গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে পারমাণবিক শক্তির নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কও রয়েছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি ইউরেনিয়াম থেকে তৈরি হয়। প্রথমে ইউরেনিয়াম অক্সাইড দিয়ে ছোট প্যালেট তৈরি করা হয়, যা পরে জ্বালানি রডে রূপান্তরিত হয়ে ফুয়েল অ্যাসেম্বলি তৈরি করে। একাধিক জ্বালানি রড একত্রে একটি বান্ডেল গঠন করে।
২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে প্রথম পারমাণবিক জ্বালানি দেশে আসে। এরপর কয়েক দফায় আরও জ্বালানি এনে রূপপুরে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশে মোট ১৬৪টি জ্বালানি বান্ডেল মজুত রয়েছে।
প্রথম ইউনিটে ১৬৩টি জ্বালানি বান্ডেল ব্যবহার করা হবে। একবার জ্বালানি লোড করলে তা দিয়ে প্রায় ১৮ মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। ব্যবহারের পর উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় এই জ্বালানি আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী রাশিয়ায় ফেরত পাঠানো হবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর তত্ত্বাবধানে এর হিসাব সংরক্ষিত থাকবে।
রিঅ্যাক্টর কোরে ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি স্থাপনে প্রায় এক মাস সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফিজিক্যাল স্টার্টআপ মিলিয়ে আরও প্রায় এক মাসের বেশি সময় প্রয়োজন হবে। সবকিছু সম্পন্ন করে পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে মোট প্রায় ১০ মাস সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। এরপর থেকে বাংলাদেশকে নিজস্বভাবে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে, যা সাধারণত দুই বছর পরপর পরিবর্তনযোগ্য হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
১১৫ বার পড়া হয়েছে