সর্বশেষ

জাতীয়

অর্থনীতিকে অগ্রসর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার অঙ্গীকার সরকারের : সংসদে অর্থমন্ত্রীর বিবৃতি

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে একটি অগ্রসর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কাঠামোয় গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার লক্ষ্যও সরকারের অগ্রাধিকার।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সংসদে কার্যপ্রণালী বিধির ৩০০ ধারা অনুযায়ী দেওয়া বিস্তৃত বিবৃতিতে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং উন্নয়নকে জনমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, জনগণের আস্থার প্রতিদান হিসেবে সরকার একটি শক্তিশালী ও সমতাভিত্তিক অর্থনীতি গঠনে কাজ করছে।

বক্তব্যে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ শুরু হয়। পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময় পোশাক শিল্পের বিকাশ, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ অর্থনীতিকে নতুন গতি দেয়।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ভ্যাট ব্যবস্থা প্রবর্তন, শুল্ক কাঠামোর আধুনিকায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব নীতির মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে চায়।

তিনি জানান, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক খাতে চাপ, বিনিয়োগের ধীরগতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়ন ও নিয়ন্ত্রণমুক্ত উন্নয়ন কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে এবং কৃষক, জেলে ও খামারিদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আইসিটি, যোগাযোগ অবকাঠামো, ব্লু ইকোনমি, ইকো-ট্যুরিজম ও আঞ্চলিক শিল্পখাতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

রাজস্ব ব্যবস্থায় অটোমেশন, কর আদায় বৃদ্ধি এবং ঋণনির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত সংস্কার ও পুঁজিবাজার উন্নয়নের উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিপুল ভর্তুকির চাপ তৈরি হয়েছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে।

এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সাশ্রয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যয় সংকোচনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিতে জ্বালানির দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

শেষে তিনি বলেন, আসন্ন বাজেটে স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

 

১৫৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন