সর্বশেষ

জাতীয়

দুই দশকের রেকর্ড ভেঙে দেশে হামে মৃত্যু, বাড়ছে মৃত্যুহার

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:১০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চলতি বছরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ দিনে—অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত—সন্দেহজনক হাম রোগে ৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১৬ জন। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায়ই সন্দেহজনকভাবে চারজন এবং নিশ্চিতভাবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

বাড়ছে মৃত্যুহার, উদ্বেগ বিশেষজ্ঞদের
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা নিয়মিত হিসাব করা হলেও মৃত্যুর হার দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়নি। আগে প্রতি ১০ লাখে মৃত্যুহার ছিল প্রায় ১ শতাংশ, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশিদ বলেন, তার ধারণা অনুযায়ী, দেশে এক বছরে হামে এত মৃত্যুর ঘটনা আগে ঘটেনি।

আক্রান্তের সংখ্যাও বেড়েছে
গত ২০ দিনে ৮২৬ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৬২৮। গত পাঁচ বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ সংক্রমণ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে দেশে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪১০। এরপরের বছরগুলোতে তা ৪০০-এর নিচে নেমে আসে।

অতীতের চিত্র: কম ছিল মৃত্যু
বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে আগে হামে মৃত্যুর ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ২০১৬ সালে একজন, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ১০ জন ত্রিপুরা শিশুর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে হাটহাজারীতে ৬ শিশুর মৃত্যু হলেও সেগুলো নিশ্চিতভাবে যাচাই করা যায়নি।

২০২০ সালে বান্দরবানে ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। এরপর এত বড় আকারে মৃত্যুর ঘটনা আর দেখা যায়নি।

নজরদারি ও গবেষণার ঘাটতি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হামের ওপর নিয়মিত নজরদারি থাকলেও মৃত্যুর সঠিক হিসাব অনেক সময় পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রে ‘ভারবাল অটোপসি’ পদ্ধতিতে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করতে হয়, যেখানে সরাসরি চিকিৎসা তথ্যের অভাব থাকে।

টিকাদানে ঘাটতি বড় কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৫ সালে টিকাদানের হার কমে যাওয়াই চলতি বছরে হামের প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুর প্রধান কারণ।

ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি অব মিজেলস অ্যান্ড রুবেলা এলিমিনেশনের প্রধান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, গত বছর পর্যাপ্ত টিকাদান না হওয়ায় বড় ক্ষতি হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাম নির্মূলের লক্ষ্য থেকে দেশ পিছিয়ে গেছে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে দেশে হামের রোগী ছিল ৯ হাজার ৭৪৩ জন, যা ২০০৫ সালে বেড়ে ২৫ হাজার ৯৩৪-এ পৌঁছায়। পরে তা কমে এলেও ২০১১ ও ২০১৬ সালে আবার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

টিকাদান কর্মসূচি
দেশে শিশুদের দুই দফায় হামের টিকা দেওয়া হয়—প্রথমটি ৯ মাসে এবং দ্বিতীয়টি ১৫ মাসে। ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় ডোজ চালু হয়।

১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় এখন ৮৪ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এলেও সাম্প্রতিক ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আবার উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

১৬০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন